সমস্যার মধ্যেই সমাধান

প্রবীরবাবু সকাল থেকেই এই ঘর থেকে ওই ঘর ছোটাছুটি করছেন। কাল থেকে ঊনার মন খুবই উদ্বিগ্ন। অফিসের মধ্যে সব কিছু গুছিয়ে রাখেন উনি। তা স্বত্তেও এতো গুরুত্বপূর্ণ পেপার্সগুলো কি করে উধাও হয়ে গেলো তা কিছুতেই ঊনার বোধগম্য হচ্ছে না। গত রাত্রে ভালোভাবে ঘুমোতেও পারেন নি। বাড়িতে ঢুকলেই প্রবীরবাবুর টেনশন দ্বিগুন হয়ে যাচ্ছে। প্রবীরবাবুর স্ত্রী প্রবীরবাবুকে একটা কারণেই দোষারোপ করতে থাকেন।

রমা রায় -প্রবীরবাবুর স্ত্রী।গৃহকর্মে বেশ নিপুণা। বাড়ির কোনো কাজেই ঊনার প্রবীরবাবুর থেকে সাহায্য লাগে না। ছেলে-মেয়েদের পরীক্ষা শেষ হয়ে রেজাল্ট বেরোলেই রমাদেবীর সেই এক চিৎকার :”অতুল আর দীপা কে নিয়ে তোমার তো দেখছি কোনো মাথা ব্যথায় নেই। সপ্তাহে একটা দিনও কি তুমি ওদের পড়াতে পারো না ?এতো রিসার্চ করে কি হবে ,ছেলে-মেয়ে কেই যদি পড়াশুনোতে ভালো না করতে পারো ?” রমাদেবী গড়গড় করে বলেই চলেছেন। প্রবীরবাবুর মন এখন অন্যত্র -সেই দুটো পেপার্স এর সন্ধানে। রমাদেবীর কোনো কথাই ঊনার মাথায় ঢুকলো না। কিন্তু কি সেই পেপার ?

দুদিন আগেই রমাদেবী প্রবীরবাবুকে অতুল আর দীপার মার্কশীট দেখিয়েছিলেন। প্রবীরবাবু বলেছিলেন -“মার্কশীটগুলো দেখি তো ,যে যে সাবজেক্টগুলোতে কম মার্কস এসেছে ,আমি ওইগুলো পড়িয়ে দেবো। “রমাদেবী তা শুনে খুশি হয়ে মার্কশীটগুলো নিতে ভুলে গিয়েছিলেন। আর এদিকে প্রবীরবাবু সেই মার্কশীটগুলো নিয়ে অফিসে চলে গিয়েছিলেন। খুব মনে করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ঊনি। আর সেইজন্যই তো শুধু এইঘর থেকে ওইঘর পায়চারী করে যাচ্ছেন। “গাড়িটা তো তন্নতন্ন করে খুঁজেছি,গাড়িতে তো নেই। অফিসেই তো সেদিন রেখেছিলাম ,তাহলে সব পেপার্সগুলো গেলো কোথায় ?”রমাদেবী প্রবীরবাবুকে টেনশনে এঘর ওঘর করতে দেখে বললেন -“বুঝতে পেরেছি,দুদিন আগে মুখ ফসকে অতুল দীপা কে পড়ানোর কথা বলে ফেলেছ ,তাই বুঝি এতো টেনশন ?তোমার টেনশন কমিয়ে দিচ্ছি। ওদের জন্য টিচারস আমি খুঁজে নিয়েছি। তোমাকে আর চিন্তা করতে হবে না।” প্রবীরবাবু পায়চারী করতেই থাকলেন। রমাদেবী বলেই চললেন -“আজ অফিস এ যাওয়ার সময় বাড়ির চাবিগোছা টা নিয়ে যেও। আমি ছেলে-মেয়ে কে নিয়ে বাপের বাড়ি যাবো। এই সপ্তাহে স্কুল নেই ওদের।এই সুযোগে একটু ঘুরে আসি। পরশু চলে আসবো। তোমার জন্য রান্না করে ফ্রিজে রেখে যাচ্ছি। গরম করে খেয়ে নিও। আর হ্যাঁ ,বাড়ীর সদর দরজায় মনে করে তালা টা লাগিয়ে যেও।  তুমি যা ভুলো মানুষ ,রিসার্চ ছাড়া তো কিছুই মনে থাকে না তোমার। “

বাড়ি শূন্য করে সব্বাই বেরিয়ে পড়লো কুতুলপুরের উদ্দেশ্যে। শান্ত স্নিগ্ধ গ্রাম-কুতুলপুর।প্রকৃতি যেন তার সমস্ত রূপ উজাড় করে দিয়েছে কুতুলপুরে। কমপক্ষে তিনটে পুকুর তো রমাদেবীর বাড়ী থেকেই দেখা যায়।পুরো গ্রাম ঘুরলে কতগুলো পুকুর দেখতে পাওয়া যাবে তা রমাদেবীও বলতে পারবেন না। অতুল আর দীপা দুজনেই খুব প্রকৃতিপ্রেমিক। ওরা দুজনেই গ্রামটির নাম রেখেছে সবুজপুর ,কারণ দূর থেকে বা খুব ওপর থেকে দেখলে মনে হয় কেও যেন সবুজ চাদরে মুড়ে দিয়েছে গ্রামটিকে। তাইতো গ্রাম তাদের স্বপ্নের জায়গা।বাসের মধ্যে জানালার ধারের  সিট্ টা বেছে নেয় দীপা। অতুল তাই অন্য সিটে জানালার ধারে।বাস চলছে।অতুল আর দীপা তাদের প্রিয় গ্রামটিকে নিয়ে নানান রকমের কল্পনায় বিভোর। রমাদেবীর মন চিন্তিত প্রবীরবাবুর ভোলা মন কে নিয়ে।

প্রবীরবাবু মনের খচখচানি নিয়েই অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। প্রবীরবাবু ভাবছেন -“দুদিন পর যখন রমা ওই পেপার্সগুলোর খোঁজ করবে ,তখন আমি কি বলবো ?”প্রবীরবাবু অফিসে ঢুকে বাড়ির পেপার্সগুলির কথা ভুলে যান। তখন ঊনার মাথায় ঘুরতে থাকে অফিসের পেপার্সগুলোর কথা। “অফিস থেকে কি করে উধাও হয় প্রজেক্ট প্ল্যানিং এর পেপার্সগুলো ?নীতিশ চাইলে কি বলবো, হারিয়ে ফেলেছি ?আবার ডিজাইন টা করে নাও ,ওকে কি একবার ডেকে পাঠাবো ?” এইসব ভাবতে ভাবতেই সারাটা দিন কেমন করে কেটে গেলো প্রবীরবাবু বুঝতেই পারলেন না। “বাড়ি যাওয়ার সময়টা  আজ বড্ডো তাড়াতাড়ি হয়ে গেলো। আজ বাড়িতে পৌঁছেই সব পেপার্সগুলো তন্নতন্ন করে খুঁজতে হবে। এইটাই সুযোগ।রমা থাকলে তো খোঁজায় হয় না ঠিক করে।ওর সামনে খোঁজাখোঁজি করলে তো হাজারটা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে।”

সারাদিনের কাজ শেষে একগোছা  চাবি হাতে বাড়ির দরজার সামনে উপস্থিত প্রবীরবাবু। এই গোছাটিতে ৭ খানা চাবি। দুই বারান্দার দুখানা ,চারটে রুমের চারখানা আর ছাদের চাবিও ওই একই সাথে। প্রবীরবাবুর মন অন্যত্র কিন্তু হাতদুটো চাবি খোলাতে ব্যস্ত। “আশ্চর্য তো সব চাবিগুলো দিয়েই তো চেষ্টা করলাম। তবু একটাতেও খুলছে না কেন ?আমি চাবি টাও হারালাম নাকি ?”চারিদিকের সমস্যা আর সারাদিনের পরিশ্রমে জর্জরিত প্রবীরবাবু।

এমন সময় কে যেন বলে উঠলো -“স্যার,আপনি কি অসুস্থ ?চাবিটা দিন স্যার, আমি খুলে দিচ্ছি। ” প্রবীরবাবু বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলেন যে তার সবচে ভালো ছাত্র নীতিশ উপস্থিত। নীতিশ পড়াশুনোতে খুবই ভালো। ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখতো রিসার্চ করবে। প্রবীরবাবুর মতো একজন অভিজ্ঞ এক্সপার্ট স্যার পেয়ে নীতিশ নিজের জীবন ধন্য মনে করে। এই তো সেদিন দুজনে মিলে প্রজেক্ট এর ডিজাইন বানিয়েছিলো ,দুদিন পরেই তো নীতীশের নিউ জার্সি তে কনফারেন্স এ এই ডিজাইন টা প্রেজেন্ট করার কথা। সেই নিয়ে নীতিশ খুবই এক্সসাইটেড।

প্রবীরবাবু এক দীর্ঘনিশ্বাস ফেললেন আর বললেন -“আমি তো চেষ্টা করেই যাচ্ছি, নীতিশ। চাবি খুলছে না। মনে হচ্ছে চাবিটাও হারিয়ে ফেলেছি। “নীতিশ বললো -“স্যার , একবার আমাকে তো দিন, চেষ্টা তো করি। ” প্রবীরবাবু নীতীশকে চাবিগোছা দিতেই, নীতিশ নিজের ব্যাগ থেকে মার্কার পেন টা বার করে নিলো। একটা চাবি দিয়ে খোলার চেষ্টা করা হয়ে গেলেই ,সেই চাবিটির ওপর মার্কার দিয়ে মার্ক করে ফেললো। এইভাবে পঞ্চম নম্বর চাবির পালা। সেটিও হার মানলো। প্রবীরবাবু বলেই চলেছেন -“তালা ভাঙার লোক ডেকে নিয়ে এসো নীতিশ , এইসবে হবে না। “এইবার ৬নম্বর চাবির পালা। একবার লাগাতেই সাথে সাথে খুলে গেলো তালা। বাড়ীতে ঢোকার সময়ে প্রবীরবাবু আরো একবার দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললেন।

নীতিশ বলল – “স্যার, আপনি বসুন।  আমি এক কাপ চা করে আনছি।  তারপর আমি শুনবো,আপনি এতো চিন্তিত কেন “, বলেই নীতিশ চা করতে চলে গেলো।৫ মিনিটের মধ্যেই চা করে নিয়ে চলে এলো নীতিশ -“স্যার,এই নিন, চা খান। আর বলুন আপনি কি কিছুর জন্য টেনশন এ আছেন “বলেই নীতিশ দুটো পেপারস তার ব্যাগ থেকে বার করে স্যার এর হাতে দিয়ে বললেন -“স্যার ,আপনি কি এইগুলোর জন্য চিন্তিত ?এই প্রজেক্ট এর পেপারস নিয়ে এতো চিন্তা আপনার ?এইগুলো তো আমি আবার বানিয়ে নিতে পারতাম।” প্রবীরবাবুর চিন্তা যেন এখনো পুরোটা বিলীন হয় নি আর তা নীতীশের চোখে স্পষ্ট। প্রবীরবাবু বললেন -“বাঃ ,এইগুলো তুমি কোথায় পেলে ,আমি তো খুঁজেই চলেছি। “

নীতিশ -“সেইসব কথা পরে বলছি, কিন্তু তার আগে বলুন তো আপনি কি আরো কিছু খুঁজছেন ?” বলেই নীতিশ আরো দুটো পেপারস বার করে প্রবীরবাবুর হাতে দিয়ে বললো -“আর সেগুলো নিশ্চই এই মার্কশীটগুলো ?”নীতীশের বলা শেষ না হতেই প্রবীরবাবু বলে উঠলেন -” আ হা ,নীতিশ ,তুমি যে আজ আমাকে কিভাবে বাঁচালে সব কিছু থেকে ,কি বলবো। তুমি যেন দেবদূত হয়ে এসেছো আমার কাছে। এবার বলো তুমি এইগুলো কোথায় পেলে ?” নীতিশ বললো -” স্যার,বৌদি আমায় ফোন করেছিলেন। আমাকে ফোন করার আগে আপনাকে অনেকবার ফোন করেছেন। কিন্তু আপনাকে না পেয়ে উনি আমাকে ফোন করেন। আমি অফিস থেকে তাড়াতাড়ি বেরিয়েই কুতুলপুরে চলে যায়। বৌদির কাছে থেকেই জানতে পারলাম – আপনি আমার প্রজেক্ট এর পেপারস দুটো বৌদির পার্স এ ভুল করে টাকা ভেবে রেখে দেন। বৌদি কুতুলপুরে বাস থেকে নেমে কন্ডাকটর কে টাকা দিতে গিয়ে দেখে -পার্স এ টাকা নেই। টাকার বদলে দুটো পেপারস। বউদির বাবা বাস স্টপ এ এসে বউদি দের নিয়ে যান। তারপর বৌদি আরো বলেন যে আপনার অফিসে যাওয়ার শার্ট টা যেটা বউদি সাথে করে নিয়ে গেছেন ,ঐখানে কাচবেন বলে, কাচতে গিয়ে দেখেন তার পকেটেই মার্কশীট দুটো। আর সেই মার্কশীট দুটো বউদি আমার দায়িত্বে দিয়ে বলেছেন -‘শুধু মার্কশীট রাখার দায়িত্ব দিচ্ছি না ,ওদের কে তোমার মতো সায়েন্টিস্ট করে তোলার দায়িত্বটাও তোমাকেই দিলাম ‘, স্যার আপনি এইসব ব্যাপারে আমাকে জানাতে পারতেন তো ,আপনার কিছুটা হলেও টেনশন কম হতো। “

প্রবীরবাবু বললেন  -“কিন্তু নীতিশ আমার গিন্নি তো তোমার দায়িত্ব খুব বাড়িয়ে দিলো ,তোমার বৌদি জানেন না যে তুমি আমার চেয়েও বেশি ব্যস্ত ,আমি তো এখন বয়স্ক বৃক্ষ ,তুমি তো সবে পুষ্ট স্বপ্নে ভরপুর চারাগাছ “

নীতিশ বলে ওঠে -“স্যার ,দায়িত্ব নিতে আমি ভয় পাই না। তবে জানেন তো স্যার ,আমাদের জীবন টা ঠিক ওই তালা -আর চাবিগোছার মতো। কোন চাবি টা কোন তালার জন্য তৈরী হয়েছে ,জানতে না পারলে জীবন দুর্বিষহ। আমাদের জীবন ও তো প্রচুর সমস্যা আর দায়িত্বে ভরপুর। কিন্তু গুরুত্ব অনুযায়ী যদি লিস্ট তৈরী করা যায় আর একটার পর একটা সমাধান করা যায়, সময় অনেকটাই পাওয়া যায়। দেখুন স্যার ,চাবি তো আপনার কাছেই ছিল। কিন্তু মন আপনার অন্যদিকে ছিল ,এমন কি চোখ ও অন্য কিছু খুঁজতে ব্যস্ত ছিল। আমার কাছে চাবি খোলাটাই প্রথম কাজ ছিল। তাই আমি তাড়াতাড়ি খুলতে পারলাম। আপনি যদি ওই পেপারস হারানোর ব্যাপারে আমাকে আগে বলতেন ,তাহলে আপনি ই হয়তো চাবি টা খুলতে পারতেন।”

প্রবীরবাবু বললেন -“তুমি একদম সঠিক কথা বলেছো ,নীতিশ। আমাদের জীবনে যেমন প্রচুর তালা আছে ,তেমনি সেই তালাগুলি খোলার চাবি টাও আমাদের কাছেই আছে। কেও একসাথে ২-৩ তে তালা খুলতে গিয়ে গন্ডগোল পাকিয়ে ফেলে  আবার কারো মন আর চোখ অন্যদিকে থাকে বলে ঠিক চাবি ঠিক তালা তে লাগিয়েও খুলতে পারে না অন্য দিকে ঘোরাতে থাকে বলে ,যেমন টা আমার সাথে হয়েছে। “

প্রবীরবাবু খুব জোরে হাসতে হাসতে বলতে থাকলেন -” তবে নীতিশ ,আজকের মতো প্রব্লেম এ আর আমি কখনোই পড়বো না ,আমার সবচে বড় দায়িত্ব আমার বস তোমার হাতে তুলে দিয়েছে। “

দুজনের গল্পে বাড়িটা আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যেবেলায় নীতীশের হাতে বানানো চা প্রবীরবাবুর শরীর আর মন কে চাঙ্গা করে তুলেছে। কখন যে রাত্রির অন্ধকারে চারিদিক ছেয়ে গেছে,তা নীতীশের চোখেই পড়ে নি। চোখে পড়তেই নীতিশ বলে ওঠে -“স্যার,এবার তাহলে আমি আসি। আপনি আজ বেশি রাত না জেগে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়বেন। ” প্রবীরবাবু বললেন -“বেশ,এসো তাহলে। তোমার আজকের উপকার আমি কোনোদিন ভুলবো না ,বুঝলে নীতিশ ? আজ রাত্রি তে ঘুমের মধ্যে যেমন গভীরতা থাকবে ঠিক তেমনই আনন্দ থাকবে।কাল সকালে একটা ফোন করে দিও কিন্তু ,কি জানি এমন ঘুমোলাম হয়তো অফিস যেতেই পারলাম না। ” নীতিশ বললো – “ঠিক আছে,স্যার,আপনি নিশ্চিন্তে ঘুমোন। আমি কাল সকালে ফোন করবো। আসি, গুড নাইট স্যার।” বলেই নীতিশ বেরিয়ে পড়লো।

প্রবীরবাবু গত দুদিন ভালো করে ঘুমোতে পারেন নি ,আজ এই শূন্য বাড়ীতে বেশ আনন্দেই ঘুমোবেন। প্রবীরবাবু রাত্রির খাওয়া সেরে বিছানায় গিয়ে ভাবতে থাকলেন -“ব্যার্থতার পর সাফল্যের স্বাদ যে দ্বিগুন হয়ে যায় ,আগে কখনো তা চোখেই পড়ে নি ,একটার পর একটা জট কেমন যেন তাড়াতাড়িই খুলে গেলো। তাহলে কি সব জটগুলো একে অপরের সঙ্গে জুড়ে থাকে ?আর আমাদের মনের কেমন সেই জটগুলোর দিকেই নজর থাকে। মনের নজরটা যদি সমাধানগুলোর দিকে থাকে তাহলে জট সহজেই খুলে যায়। ভাবতে ভাবতে প্রবীরবাবু নিদ্রাচ্ছন হলেন। আজকের রাতের ঘুম টা প্রবীরবাবুর কাছে খাবারের চেয়েও মূল্যবান।