চিনি না 

কেমনে আমি চিনিব তোমায়,
যে আমি চিনি না আমায়।
দোষীও না আমারে ,
ঠাঁই দিও তোমার হৃদয়ে।
কভু কখনো ভুল করিলে  ,
শাসন করিও আমায় পিতার মতো করে।
এখন এই ব্যস্ত জীবনে ,
খুঁজে পাই না তোমার ভালোবাসা কে।
তুমিও তো মানুষ, তোমার তো চাই –
তবুও তোমার চোখে চিহ্নটুকু কেন নাই ?
এমন সুপ্ত ভালোবাসা কভু দেখি নাই –
যার কোনো কিছু চাওয়া পাওয়া নাই।
সখা প্রকাশ করো নিজেকে ,
উজাড় করে দাও,মেতে ওঠো আনন্দে।
ভাসিয়ে দাও শরীর  প্রেমের আকাশে ,
আর হারিয়ে দাও মন মাটির সবুজে।
ছোট্টো এই জীবন আর ছোট্টো এই সংসার –
ভরিয়ে দাও রং আর ভালোবাসায়। 

ভগবান

তুচ্ছ আমি ,তবু তোমারেই সৃষ্টি ,
তুচ্ছ এই পিপীলিকা ,সেও তো তোমারেই সৃষ্টি।
যদি তুমি হও মহান শক্তি ,
কেন এতো অবিচার অন্যায় রক্তারক্তি ?
যদি তোমার হৃদয় এতো বড়,
মানুষের পূজোয়, উপোসে সত্যিই কী তুমি দাও সাড়া ?
এতো মন্দির ,এতো মানুষের এতো প্রার্থনা
সত্যিই কী তোমার মন কে দেয় নাড়া ?
কিছুই মেলাতে পারি না, তুমি সত্যিই খুব গভীর
আমার কাছে তুমি সংজ্ঞা হীন ,অসীম
এই জগতের এতো লীলা,
সে ও কি  তোমারেই খেলা ?
সূর্য ,চন্দ্র ,পৃথিবী সেও কি তুমি,
তুমি কে গো সেই অন্তর্যামী ?
আমার কাছে তুমি এই মহাবিশ্বের ডিরেক্টর ,
আর আমরা চরিত্র তোমার লেখা নাটকের।
কিছু ভালো হলে সবাই বলে নিজে করেছে ,
কিছু খারাপ হলে বলে ভগবান দেখছে না।
কারো মন বদলে যাওয়া ,ভাগ্য খুলে যাওয়া,
আমি বলি সবই তোমার করা।
এটাও মানি সবার অন্তরে থাকো তুমি
অসীম শক্তিধারী তুমি
সেই তুমি জাগো অন্তর হতে জাগো।

পরিবর্তন 

 
আজকালকার বাচ্চারা শৈশব হারিয়েছে। হারিয়েছে spontaneousness,natural way te বড়ো হওয়া।আমাদের সময় যৌথ পরিবারের মধ্যে বড় হওয়াতে এখনকার বাচ্চাদের মতো মা কে কাছে পেতাম না। আর সেই জন্যে নিজে নিজে খেতে শিখে যেতাম কম বয়সেই। বন্ধু একটা বিশাল জিনিস ছিল। বিকেল হলেই খেলতে যাওয়া।এখনকার বাচ্চারা পুরো অন্য রকম। তাদের মা বাবা ছাড়া কেউ নেই। মা বাবা আবার থেকেও নেই। কারণ তাদের ব্যস্ত জীবন। আমরা মা বাবা কে না পেলেও কাকু কাকী পিসি ঠাম্মা দাদু কতজনকে পেতাম কাছে। এখনকার বাচ্চারা বডো একা। কি জানি কি ভবিষ্যৎ এদের। এদের পৃথিবী টা বাংলা কিন্তু স্কুল টা ইংরেজি। এরা স্বপ্ন দেখবে বাংলা তে কিন্তু পড়াশুনো করবে ইংরেজি তে। বাংলা কে অবহেলা করে তাড়াতে চাইলেও পারছে না কারণ এদের রক্তে বাংলা বংশে বাংলা। এরা ইংরেজী তে কথা বলবে বেশ ভালো কিন্তু স্বামী বিবেকানন্দ কে জানবে না। এরা যতই পরীক্ষা দিক না কেন এরা একটি মেশিন তৈরী হবে। একটা সময় আসবে এরা প্রকৃতির খামখেয়ালীকে মেনে নিতে পারবে না। দোষ এদের না, দোষ এই সমাজের।এরা প্রকৃতি কেও নিজের হাতে আনতে চাইবে। এরা ভাবতে জনবে না। ভাবার মতো এদের কে সময় দেওয়া হয় না। দুই বছর বয়স থেকেই এদের স্কুলে পাঠানো হয়। আর তখন থেকেই কেড়ে নেওয়া হয় ভাবনা চিন্তা করার অবকাশ।এরা মাটি তে মিশতে পারে না, মিশবেই বা কি করে ! এদের জন্ম তো মাটিতে নয়, এদের জন্ম high raise building এর এয়ার কন্ডিশনার রুমে। তাইতো এরা মেঝেতে খালি পা রাখলে এলার্জি হয় এদের। এরা বৃষ্টিতে একটু ভিজলেই এদের ঠাণ্ডা লাগে। কিন্তু আইসক্রীম খেলে এদের ঠান্ডা লাগে না কারন মেশিন মেশিনের সাথেই মিশতে পারে। কী অদ্ভূত তাই না? এরা swimming pool এ অনেকক্ষণ চান করলে এদের কিছু হয় না কিন্তু বৃষ্টির জলে এদের এলার্জি। আমরা pollution বাড়িয়ে চলেছি আর এরা ধোঁয়া সহ্য করতে পারে না। আমরা বলছি smoking is injurious to health আবার আমরাই cigarette এর factory বানাতে সাহায্য করছি। এরা ঊনুনের ধোঁয়া সহ্য করতে পারবে না কিন্তু কি অদ্ভতভাবে এরা cigarette এর ধোঁয়া সইতে পারবে। এরা মেশিন এর মতো life lead করতে করতে কখন নিজেরাই মেশিন হয়ে যাবে টের পাবে না।
কিন্তু যাই বলো ন্যাচারেল জিনিসের মাধুর্যকে অস্বীকার করা যাই না। আমাদের ছোটোবেলায় ভালো ছিল। হঠাৎ বৃষ্টি তে ভেজার আনন্দ টাও আলাদা। loadshading এ হ্যারিকেন এর আলোয় সবাই মিলে পড়াশোনা করার আনন্দও ভুলি নি। প্রচুর রোদে ছাতা ছাড়াই পা য়ে হেঁটে tution পড়তে যাওয়ার মধ্যে ও আনন্দ ছিল। 

আর আমাদের দুমুখো চরিত্র টাও নিষ্ঠুর কিন্তু সত্য। আমরাই খাবারে শাক সব্জিতে ভেজাল দিই আবার আমরাই সেটা বাজারে বিক্রি করি মানে খেতে বলি আবার আমরাই tv তে দেখাতে বলি এতে ভেজাল ওতে ভেজাল , খেয়ো না, খেলে শরীর এ এই হবে ওই হবে। আমরা সমস্যার সমাধান করতে জানি না। আর এরা সমস্যার সমাধান করবে tv,freeze এর মতো শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ replace করে। তবুও কারণের মূল টাকে কেউ উপড়ে ফেলবে না।

আমার লিখা

 
picture of scenery এর ছবির ফলাফল
লিখতে আমি বড্ড ভালোবাসি।
আমার লিখায় আছে সব-
যা আছে তোমার আমার পাশাপাশি,
আর আছে পাখির কলরব ।।
আমার লিখা প্রকৃতির সাথে করে মাখামাখি ।
ছাদের এক কোনায় দাঁড়িয়ে –
শুধু করে চারিদিক দেখাদেখি ,
ভাবতে থাকে সবার কথা আনমনে।।
আমার লিখায় আছে রাস্তাঘাট,গাছপালা,
আছে ঝর্নার আওয়াজ –
সাথে পাহাড়,জঙ্গল,নদীনালা
আর আছে সূর্যের তেজ ।।
আমার লিখা আমাকে কাঁদায়,হাসায় আর ভাবায়।
আমার লিখা আমাকে নতুন করে বাঁচতে শেখায় ।
সেই ছোটবেলায় হাত ধরেছি আমার লিখার,
পথে চলতে চলতে হোঁচট খেয়েছি কতবার –
তবুও থামি নি লিখা আছে যে সাথে।।

আমি কে

 
আমি প্রকৃতির এক অনবদ্য সৃষ্টি
যখন মুষলধারে হয় বৃষ্টি,
আর আমি সেই বৃষ্টিতে ভিজতে থাকি
মনে হয় আমিই বৃষ্টি হয়ে পড়ছি।
যখন আমি নদীতে ডুব দিই।
মনে হয় আমি অংশ শুধু নদীর ই
নদীর জলে চান করে আমার মন
আমি তখন নদী হয়ে যায় কিছুক্ষণ।
আবার যখন পাহাড়ের চূড়ায় আমি
তখন কেমন পাহাড়ের ভেতর ঢুকে থাকি
শুধু মনে হয় আমি ই পাহাড়
মনে হয় অনেক উঁচুতে আমি,পাথরে ভর্তি এক খাড়া পাহাড় ।
যখন সমুদ্রের ঢেউ লাগে আমার শরীরে মনে
কখন যেন মিশে যায় ঢেউয়ের সাথে একান্তে গোপনে
ভাবতে থাকি বিশাল সমুদ্রের ই সন্তান আমি
সমুদ্রের স্রোতে মনকে নিয়ে আমি সাঁতার কাটি ।
যখন কোনো পাহাড়ের কোল থেকে ঝর্ণা নামছে
আর ঠিক তার নিচে আমার শরীর মনকে নিয়ে ভাবছে
ভাবছে আনমনে আমি ই যেন সেই দুরন্ত ঝর্ণা ।
প্রবল বৃষ্টিতে আমি ই তৈরি করি বন্যা।
এইভাবে প্রকৃতির সাথে মেখে থাকি আমি
কখনো কখনো বুঝতে পারি না কে আমি ?
আমি কি প্রকৃতির ই এক সন্তান ?
নাকি প্রকৃতিই আমার সন্তান ?