সমস্যার মধ্যেই সমাধান

প্রবীরবাবু সকাল থেকেই এই ঘর থেকে ওই ঘর ছোটাছুটি করছেন। কাল থেকে ঊনার মন খুবই উদ্বিগ্ন। অফিসের মধ্যে সব কিছু গুছিয়ে রাখেন উনি। তা স্বত্তেও এতো গুরুত্বপূর্ণ পেপার্সগুলো কি করে উধাও হয়ে গেলো তা কিছুতেই ঊনার বোধগম্য হচ্ছে না। গত রাত্রে ভালোভাবে ঘুমোতেও পারেন নি। বাড়িতে ঢুকলেই প্রবীরবাবুর টেনশন দ্বিগুন হয়ে যাচ্ছে। প্রবীরবাবুর স্ত্রী প্রবীরবাবুকে একটা কারণেই দোষারোপ করতে থাকেন।

রমা রায় -প্রবীরবাবুর স্ত্রী।গৃহকর্মে বেশ নিপুণা। বাড়ির কোনো কাজেই ঊনার প্রবীরবাবুর থেকে সাহায্য লাগে না। ছেলে-মেয়েদের পরীক্ষা শেষ হয়ে রেজাল্ট বেরোলেই রমাদেবীর সেই এক চিৎকার :”অতুল আর দীপা কে নিয়ে তোমার তো দেখছি কোনো মাথা ব্যথায় নেই। সপ্তাহে একটা দিনও কি তুমি ওদের পড়াতে পারো না ?এতো রিসার্চ করে কি হবে ,ছেলে-মেয়ে কেই যদি পড়াশুনোতে ভালো না করতে পারো ?” রমাদেবী গড়গড় করে বলেই চলেছেন। প্রবীরবাবুর মন এখন অন্যত্র -সেই দুটো পেপার্স এর সন্ধানে। রমাদেবীর কোনো কথাই ঊনার মাথায় ঢুকলো না। কিন্তু কি সেই পেপার ?

দুদিন আগেই রমাদেবী প্রবীরবাবুকে অতুল আর দীপার মার্কশীট দেখিয়েছিলেন। প্রবীরবাবু বলেছিলেন -“মার্কশীটগুলো দেখি তো ,যে যে সাবজেক্টগুলোতে কম মার্কস এসেছে ,আমি ওইগুলো পড়িয়ে দেবো। “রমাদেবী তা শুনে খুশি হয়ে মার্কশীটগুলো নিতে ভুলে গিয়েছিলেন। আর এদিকে প্রবীরবাবু সেই মার্কশীটগুলো নিয়ে অফিসে চলে গিয়েছিলেন। খুব মনে করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ঊনি। আর সেইজন্যই তো শুধু এইঘর থেকে ওইঘর পায়চারী করে যাচ্ছেন। “গাড়িটা তো তন্নতন্ন করে খুঁজেছি,গাড়িতে তো নেই। অফিসেই তো সেদিন রেখেছিলাম ,তাহলে সব পেপার্সগুলো গেলো কোথায় ?”রমাদেবী প্রবীরবাবুকে টেনশনে এঘর ওঘর করতে দেখে বললেন -“বুঝতে পেরেছি,দুদিন আগে মুখ ফসকে অতুল দীপা কে পড়ানোর কথা বলে ফেলেছ ,তাই বুঝি এতো টেনশন ?তোমার টেনশন কমিয়ে দিচ্ছি। ওদের জন্য টিচারস আমি খুঁজে নিয়েছি। তোমাকে আর চিন্তা করতে হবে না।” প্রবীরবাবু পায়চারী করতেই থাকলেন। রমাদেবী বলেই চললেন -“আজ অফিস এ যাওয়ার সময় বাড়ির চাবিগোছা টা নিয়ে যেও। আমি ছেলে-মেয়ে কে নিয়ে বাপের বাড়ি যাবো। এই সপ্তাহে স্কুল নেই ওদের।এই সুযোগে একটু ঘুরে আসি। পরশু চলে আসবো। তোমার জন্য রান্না করে ফ্রিজে রেখে যাচ্ছি। গরম করে খেয়ে নিও। আর হ্যাঁ ,বাড়ীর সদর দরজায় মনে করে তালা টা লাগিয়ে যেও।  তুমি যা ভুলো মানুষ ,রিসার্চ ছাড়া তো কিছুই মনে থাকে না তোমার। “

বাড়ি শূন্য করে সব্বাই বেরিয়ে পড়লো কুতুলপুরের উদ্দেশ্যে। শান্ত স্নিগ্ধ গ্রাম-কুতুলপুর।প্রকৃতি যেন তার সমস্ত রূপ উজাড় করে দিয়েছে কুতুলপুরে। কমপক্ষে তিনটে পুকুর তো রমাদেবীর বাড়ী থেকেই দেখা যায়।পুরো গ্রাম ঘুরলে কতগুলো পুকুর দেখতে পাওয়া যাবে তা রমাদেবীও বলতে পারবেন না। অতুল আর দীপা দুজনেই খুব প্রকৃতিপ্রেমিক। ওরা দুজনেই গ্রামটির নাম রেখেছে সবুজপুর ,কারণ দূর থেকে বা খুব ওপর থেকে দেখলে মনে হয় কেও যেন সবুজ চাদরে মুড়ে দিয়েছে গ্রামটিকে। তাইতো গ্রাম তাদের স্বপ্নের জায়গা।বাসের মধ্যে জানালার ধারের  সিট্ টা বেছে নেয় দীপা। অতুল তাই অন্য সিটে জানালার ধারে।বাস চলছে।অতুল আর দীপা তাদের প্রিয় গ্রামটিকে নিয়ে নানান রকমের কল্পনায় বিভোর। রমাদেবীর মন চিন্তিত প্রবীরবাবুর ভোলা মন কে নিয়ে।

প্রবীরবাবু মনের খচখচানি নিয়েই অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। প্রবীরবাবু ভাবছেন -“দুদিন পর যখন রমা ওই পেপার্সগুলোর খোঁজ করবে ,তখন আমি কি বলবো ?”প্রবীরবাবু অফিসে ঢুকে বাড়ির পেপার্সগুলির কথা ভুলে যান। তখন ঊনার মাথায় ঘুরতে থাকে অফিসের পেপার্সগুলোর কথা। “অফিস থেকে কি করে উধাও হয় প্রজেক্ট প্ল্যানিং এর পেপার্সগুলো ?নীতিশ চাইলে কি বলবো, হারিয়ে ফেলেছি ?আবার ডিজাইন টা করে নাও ,ওকে কি একবার ডেকে পাঠাবো ?” এইসব ভাবতে ভাবতেই সারাটা দিন কেমন করে কেটে গেলো প্রবীরবাবু বুঝতেই পারলেন না। “বাড়ি যাওয়ার সময়টা  আজ বড্ডো তাড়াতাড়ি হয়ে গেলো। আজ বাড়িতে পৌঁছেই সব পেপার্সগুলো তন্নতন্ন করে খুঁজতে হবে। এইটাই সুযোগ।রমা থাকলে তো খোঁজায় হয় না ঠিক করে।ওর সামনে খোঁজাখোঁজি করলে তো হাজারটা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে।”

সারাদিনের কাজ শেষে একগোছা  চাবি হাতে বাড়ির দরজার সামনে উপস্থিত প্রবীরবাবু। এই গোছাটিতে ৭ খানা চাবি। দুই বারান্দার দুখানা ,চারটে রুমের চারখানা আর ছাদের চাবিও ওই একই সাথে। প্রবীরবাবুর মন অন্যত্র কিন্তু হাতদুটো চাবি খোলাতে ব্যস্ত। “আশ্চর্য তো সব চাবিগুলো দিয়েই তো চেষ্টা করলাম। তবু একটাতেও খুলছে না কেন ?আমি চাবি টাও হারালাম নাকি ?”চারিদিকের সমস্যা আর সারাদিনের পরিশ্রমে জর্জরিত প্রবীরবাবু।

এমন সময় কে যেন বলে উঠলো -“স্যার,আপনি কি অসুস্থ ?চাবিটা দিন স্যার, আমি খুলে দিচ্ছি। ” প্রবীরবাবু বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলেন যে তার সবচে ভালো ছাত্র নীতিশ উপস্থিত। নীতিশ পড়াশুনোতে খুবই ভালো। ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখতো রিসার্চ করবে। প্রবীরবাবুর মতো একজন অভিজ্ঞ এক্সপার্ট স্যার পেয়ে নীতিশ নিজের জীবন ধন্য মনে করে। এই তো সেদিন দুজনে মিলে প্রজেক্ট এর ডিজাইন বানিয়েছিলো ,দুদিন পরেই তো নীতীশের নিউ জার্সি তে কনফারেন্স এ এই ডিজাইন টা প্রেজেন্ট করার কথা। সেই নিয়ে নীতিশ খুবই এক্সসাইটেড।

প্রবীরবাবু এক দীর্ঘনিশ্বাস ফেললেন আর বললেন -“আমি তো চেষ্টা করেই যাচ্ছি, নীতিশ। চাবি খুলছে না। মনে হচ্ছে চাবিটাও হারিয়ে ফেলেছি। “নীতিশ বললো -“স্যার , একবার আমাকে তো দিন, চেষ্টা তো করি। ” প্রবীরবাবু নীতীশকে চাবিগোছা দিতেই, নীতিশ নিজের ব্যাগ থেকে মার্কার পেন টা বার করে নিলো। একটা চাবি দিয়ে খোলার চেষ্টা করা হয়ে গেলেই ,সেই চাবিটির ওপর মার্কার দিয়ে মার্ক করে ফেললো। এইভাবে পঞ্চম নম্বর চাবির পালা। সেটিও হার মানলো। প্রবীরবাবু বলেই চলেছেন -“তালা ভাঙার লোক ডেকে নিয়ে এসো নীতিশ , এইসবে হবে না। “এইবার ৬নম্বর চাবির পালা। একবার লাগাতেই সাথে সাথে খুলে গেলো তালা। বাড়ীতে ঢোকার সময়ে প্রবীরবাবু আরো একবার দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললেন।

নীতিশ বলল – “স্যার, আপনি বসুন।  আমি এক কাপ চা করে আনছি।  তারপর আমি শুনবো,আপনি এতো চিন্তিত কেন “, বলেই নীতিশ চা করতে চলে গেলো।৫ মিনিটের মধ্যেই চা করে নিয়ে চলে এলো নীতিশ -“স্যার,এই নিন, চা খান। আর বলুন আপনি কি কিছুর জন্য টেনশন এ আছেন “বলেই নীতিশ দুটো পেপারস তার ব্যাগ থেকে বার করে স্যার এর হাতে দিয়ে বললেন -“স্যার ,আপনি কি এইগুলোর জন্য চিন্তিত ?এই প্রজেক্ট এর পেপারস নিয়ে এতো চিন্তা আপনার ?এইগুলো তো আমি আবার বানিয়ে নিতে পারতাম।” প্রবীরবাবুর চিন্তা যেন এখনো পুরোটা বিলীন হয় নি আর তা নীতীশের চোখে স্পষ্ট। প্রবীরবাবু বললেন -“বাঃ ,এইগুলো তুমি কোথায় পেলে ,আমি তো খুঁজেই চলেছি। “

নীতিশ -“সেইসব কথা পরে বলছি, কিন্তু তার আগে বলুন তো আপনি কি আরো কিছু খুঁজছেন ?” বলেই নীতিশ আরো দুটো পেপারস বার করে প্রবীরবাবুর হাতে দিয়ে বললো -“আর সেগুলো নিশ্চই এই মার্কশীটগুলো ?”নীতীশের বলা শেষ না হতেই প্রবীরবাবু বলে উঠলেন -” আ হা ,নীতিশ ,তুমি যে আজ আমাকে কিভাবে বাঁচালে সব কিছু থেকে ,কি বলবো। তুমি যেন দেবদূত হয়ে এসেছো আমার কাছে। এবার বলো তুমি এইগুলো কোথায় পেলে ?” নীতিশ বললো -” স্যার,বৌদি আমায় ফোন করেছিলেন। আমাকে ফোন করার আগে আপনাকে অনেকবার ফোন করেছেন। কিন্তু আপনাকে না পেয়ে উনি আমাকে ফোন করেন। আমি অফিস থেকে তাড়াতাড়ি বেরিয়েই কুতুলপুরে চলে যায়। বৌদির কাছে থেকেই জানতে পারলাম – আপনি আমার প্রজেক্ট এর পেপারস দুটো বৌদির পার্স এ ভুল করে টাকা ভেবে রেখে দেন। বৌদি কুতুলপুরে বাস থেকে নেমে কন্ডাকটর কে টাকা দিতে গিয়ে দেখে -পার্স এ টাকা নেই। টাকার বদলে দুটো পেপারস। বউদির বাবা বাস স্টপ এ এসে বউদি দের নিয়ে যান। তারপর বৌদি আরো বলেন যে আপনার অফিসে যাওয়ার শার্ট টা যেটা বউদি সাথে করে নিয়ে গেছেন ,ঐখানে কাচবেন বলে, কাচতে গিয়ে দেখেন তার পকেটেই মার্কশীট দুটো। আর সেই মার্কশীট দুটো বউদি আমার দায়িত্বে দিয়ে বলেছেন -‘শুধু মার্কশীট রাখার দায়িত্ব দিচ্ছি না ,ওদের কে তোমার মতো সায়েন্টিস্ট করে তোলার দায়িত্বটাও তোমাকেই দিলাম ‘, স্যার আপনি এইসব ব্যাপারে আমাকে জানাতে পারতেন তো ,আপনার কিছুটা হলেও টেনশন কম হতো। “

প্রবীরবাবু বললেন  -“কিন্তু নীতিশ আমার গিন্নি তো তোমার দায়িত্ব খুব বাড়িয়ে দিলো ,তোমার বৌদি জানেন না যে তুমি আমার চেয়েও বেশি ব্যস্ত ,আমি তো এখন বয়স্ক বৃক্ষ ,তুমি তো সবে পুষ্ট স্বপ্নে ভরপুর চারাগাছ “

নীতিশ বলে ওঠে -“স্যার ,দায়িত্ব নিতে আমি ভয় পাই না। তবে জানেন তো স্যার ,আমাদের জীবন টা ঠিক ওই তালা -আর চাবিগোছার মতো। কোন চাবি টা কোন তালার জন্য তৈরী হয়েছে ,জানতে না পারলে জীবন দুর্বিষহ। আমাদের জীবন ও তো প্রচুর সমস্যা আর দায়িত্বে ভরপুর। কিন্তু গুরুত্ব অনুযায়ী যদি লিস্ট তৈরী করা যায় আর একটার পর একটা সমাধান করা যায়, সময় অনেকটাই পাওয়া যায়। দেখুন স্যার ,চাবি তো আপনার কাছেই ছিল। কিন্তু মন আপনার অন্যদিকে ছিল ,এমন কি চোখ ও অন্য কিছু খুঁজতে ব্যস্ত ছিল। আমার কাছে চাবি খোলাটাই প্রথম কাজ ছিল। তাই আমি তাড়াতাড়ি খুলতে পারলাম। আপনি যদি ওই পেপারস হারানোর ব্যাপারে আমাকে আগে বলতেন ,তাহলে আপনি ই হয়তো চাবি টা খুলতে পারতেন।”

প্রবীরবাবু বললেন -“তুমি একদম সঠিক কথা বলেছো ,নীতিশ। আমাদের জীবনে যেমন প্রচুর তালা আছে ,তেমনি সেই তালাগুলি খোলার চাবি টাও আমাদের কাছেই আছে। কেও একসাথে ২-৩ তে তালা খুলতে গিয়ে গন্ডগোল পাকিয়ে ফেলে  আবার কারো মন আর চোখ অন্যদিকে থাকে বলে ঠিক চাবি ঠিক তালা তে লাগিয়েও খুলতে পারে না অন্য দিকে ঘোরাতে থাকে বলে ,যেমন টা আমার সাথে হয়েছে। “

প্রবীরবাবু খুব জোরে হাসতে হাসতে বলতে থাকলেন -” তবে নীতিশ ,আজকের মতো প্রব্লেম এ আর আমি কখনোই পড়বো না ,আমার সবচে বড় দায়িত্ব আমার বস তোমার হাতে তুলে দিয়েছে। “

দুজনের গল্পে বাড়িটা আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যেবেলায় নীতীশের হাতে বানানো চা প্রবীরবাবুর শরীর আর মন কে চাঙ্গা করে তুলেছে। কখন যে রাত্রির অন্ধকারে চারিদিক ছেয়ে গেছে,তা নীতীশের চোখেই পড়ে নি। চোখে পড়তেই নীতিশ বলে ওঠে -“স্যার,এবার তাহলে আমি আসি। আপনি আজ বেশি রাত না জেগে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়বেন। ” প্রবীরবাবু বললেন -“বেশ,এসো তাহলে। তোমার আজকের উপকার আমি কোনোদিন ভুলবো না ,বুঝলে নীতিশ ? আজ রাত্রি তে ঘুমের মধ্যে যেমন গভীরতা থাকবে ঠিক তেমনই আনন্দ থাকবে।কাল সকালে একটা ফোন করে দিও কিন্তু ,কি জানি এমন ঘুমোলাম হয়তো অফিস যেতেই পারলাম না। ” নীতিশ বললো – “ঠিক আছে,স্যার,আপনি নিশ্চিন্তে ঘুমোন। আমি কাল সকালে ফোন করবো। আসি, গুড নাইট স্যার।” বলেই নীতিশ বেরিয়ে পড়লো।

প্রবীরবাবু গত দুদিন ভালো করে ঘুমোতে পারেন নি ,আজ এই শূন্য বাড়ীতে বেশ আনন্দেই ঘুমোবেন। প্রবীরবাবু রাত্রির খাওয়া সেরে বিছানায় গিয়ে ভাবতে থাকলেন -“ব্যার্থতার পর সাফল্যের স্বাদ যে দ্বিগুন হয়ে যায় ,আগে কখনো তা চোখেই পড়ে নি ,একটার পর একটা জট কেমন যেন তাড়াতাড়িই খুলে গেলো। তাহলে কি সব জটগুলো একে অপরের সঙ্গে জুড়ে থাকে ?আর আমাদের মনের কেমন সেই জটগুলোর দিকেই নজর থাকে। মনের নজরটা যদি সমাধানগুলোর দিকে থাকে তাহলে জট সহজেই খুলে যায়। ভাবতে ভাবতে প্রবীরবাবু নিদ্রাচ্ছন হলেন। আজকের রাতের ঘুম টা প্রবীরবাবুর কাছে খাবারের চেয়েও মূল্যবান।

Best Birthday Gift- A Short Story

blue-present_300

In response to Helene’s weekly challenge What do you see ? Here I am presenting one short story on “Best Birthday Gift”.

Leena and Tina are two sisters. Their financial condition is very poor. They have seen from their childhood that some of their friends celebrate their birthday so beautifully that the entire colony remember the day.

Tina : Didi, my friend’s birthday is there in the evening today. She has invited me for attending her birthday. I don’t want to attend. Every year, I attend so many birthday parties of my friends.My all friends bring so costly gifts. I give only pen,pencil box,color pencils only.

Leena : So what dear ? did anybody tell you something regarding this ?

Tina : No one said anything. But I feel bad as I never call them to my house.

Leena : Your friends understand our situation. Is it possible for us to arrange such a huge birthday party ?

Tina : I know didi, it is not possible. But what will happen if I don’t go to attend the birthday party.

Leena : Priya is your best friend. If you don’t go to the party, she will not feel good.

Still Tina did not agree to attend the party. It was 7 p.m in the evening. Leena again told her to go. Tina did not attend. It was 8.30 p.m ,someone knocked the door. Leena opened the door.

Leena :Priya,Wish you a very happy birthday. But you are here in this time !

Priya : Didi, where is Tina ? Why she has not come to my birthday ? Have I done anything wrong with her? I can’t cut my birthday cake without her. All my friends are waiting at my house for me and I am waiting for Tina.

Tina and Priya both are very good friends. Priya is from middle class family. Tina’s family is lying below poverty line. Tina is very intelligent. They are studying at class seven. When Priya can not able to solve some numerical problems, Tina easily solve it. Tina loves to study very much. Tina feels that the most precious gift to her is that she is here to solve mathematical problems. But today, she is upset as she wanted to gift her best friend a costly gift, but she can’t.

Leena : She is in that room. You go and meet her.

Priya : No, didi. I will not meet her. I know why she does not want to come to my house.

Priya opened one box from her bag, the box was wrapped with silver color paper and tied up with ribbons . She gave this box to Leena and told : Didi, you take this and give it to Tina. A letter is there. Give it to her. She will understand. Tell her to come our house as early as possible.

Leena -What are you saying ? I can’t do this. It is not fair.

Priya – what is fair didi? Your younger sister is crying there alone in the room. Is it fair ? Has she done anything wrong ? If not, then why can’t she enjoy with us ?

Leena -I will convince her to attend the party. Your friends are waiting. You are being late. You go and I am telling Tina to go. (Priya left their house ).

Leena opened the box gently. Leena saw a letter with a “Mathematics Book”. In the Letter, it is written :

“Dear Tina,

My father had brought this book yesterday. You know that you are more than that of a mathematics book to me. In the book, only problems are there. But solutions are with you. This book , I am gifting you so that you can prepare the solutions for me. In this Box, you put your mathematics book which we both have solved already. you know that I need so many revisions. Though the book is old, it looks new as you have wrapped it so nicely yesterday after completion of the book. I need this book urgently. Then you bring this to my birthday. I am waiting for you. All of my friends are waiting. Without your presence, my lovely mathematics teacher, my best friend, I can’t cut my cake. This will be my best gift. Your presence along with your Mathematics book will enlighten my birthday.

From :Priya “

“Tina ! Tina !Read this letter and be ready for going to the birthday party. Where is your mathematics book? Give me. I am arranging the gift. You be ready”- said Leena.

Tina still hesitated for doing so after reading the letter.

Leena -:” Tina, do you know that this box has its value? Gift is gift only,which is to be given. It may happen that box is full of chocolates or full of hugs, loves, respect which can’t be seen by opening the box,but to whom you will give,he/she will feel that. So, It does not matter what it contains. To Priya, your book along with your presence is precious. Can’t you give that to her ?”

Then Tina agreed and left her house to join Priya’s Birthday.

Thank you for reading. Let us make a beautiful world together. Stay Blessed always.

The Brilliant Grandmother

Written in response to prompt: What do you See? May 14/2019

Once upon a time, there was a boy lived with his grandmother in a hut. When he became 18 year’s old, grandmother told him – “Now, time has come and you have to do something so that you can take care of yourself as I am growing older and I will not be able to take care of you further.” Then the boy tried a lot for getting a job. First, he tried to run a small shop. But he faced a great amount of loss. Then, he tried to do clarical job in a school. After few months, he left the job. Then he got a job of personal assistant in a company, but he could not able to do this job more than two months. He got disappointed. He failed and failed.
Seeing his poor condition of mind, grandmother told him – “my dear grandson, have you come to know for what reason you could not be able to continue a job?”
The boy – “no, I can’t do anything. You have spent so much money on me. I got first division in class twelve but still I am worthless.”
The grandmother – “Nobody is worthless in this Universe. Problem is- you don’t take help of your eyes. Eyes are powerful tools. Not only you should watch what can be seen by everyone but also you should watch what can’t be seen by others.”
The boy-” I am not getting what are you telling. Please grandma, explain me in detail”.
Grandmother – ” God has given that power to everyone by which he/she can come to know what he/she loves, what are the strong points or weak points of him/her. Tell me what do you like to do?”
The boy – “I like to write very much. Will you see my writings?”
Grandmother smiled and told – “which are kept below the mattress?”
The boy- “How do you come to know?”
Grandmother – “I know because I want to know about you, my grandson. And where there is a will there is a way”.
The boy – “But, by my writing I can’t earn because I am not Shakespeare or Rabindranath Tagore”.
The Grandmother – “Don’t disrespect to your love. I have read your writings. I know that if you publish these writings, it will be enough for you to start earning.”
The boy – “Are you dreaming, my dear grandmother? It is not at all possible. There are more than one lakh writers in our country. But how many are becoming Rabindranath Tagore or Shakespeare?”
The grandmother – “can you see that plant where there is only one flower? It will be almost equal to a height of 10th floor building . Can you bring that flower for me?”
The boy – “But how can I bring that flower? I can’t climb so much. But there is one idea. I can search for a labor who is habituated in climbing so long building and a ladder too if the labor demands.”
The grandmother – “okay, I will wait. You search for a labor and a ladder and in the meantime I will start climbing on the stairs. Let us see who can get the flower first?”
The grandmother took some food and water in a pot and started climbing on the stairs. The boy left the hut to search for a labor . He went many people’s houses to get ladders. But no one had that type of long ladder. Even he didn’t find any labor too. After 5 days, he came back and saw the grandmother in their hut. The boy said – “So, you also couldn’t pluck that flower. I have also not got any labor and ladder, I am so sorry.”
The grandmother showed the flower and told – “Beta, the flower which you are seeing at the top, that is another one. The flower which is in my hand, is that flower which you saw that time. You have taken 5 days time. You avoided the path of hard working where success is guaranteed. You have chosen the comfortable path, your desire was not so strong as you don’t like that flower. I like that flower. These are the reasons I got it within few hours.
But you love writing very much. Love is there. Only thing you have to put is ‘ hard working’. When ‘love or strong desire’ and ‘hard working’ go side by side, Universe can’t stop him /her from getting success.
After plucking up the flower, another flower has taken that place. This means, after these failures, there are still chances which will give you success. So continue your hard working. Try to publish your writings. Oneday success must come to you. ”
Moral of the story : Hard Working with patience always leads success.

প্রকৃতিই ছোট্ট তানিয়ার মোবাইল  

তানিয়া পরিসান হয়ে উঠেছে তার মেয়ে টিউলিপ কে নিয়ে।সবে বয়স পাঁচ।কিন্তু মোবাইলটাই যেন সব কিছু।তানিয়া মেয়ে কে খাওয়াতে গেলেই টিউলিপ বলে -মা আগে মোবাইল দাও,তাহলে খাবো।তানিয়া বাধ্য হতো মোবাইল টা দিতে।কারণ ছোট্টো টিউলিপ সেই সকাল সাত টাই স্কুলে গিয়ে দুপুর 1 টাই বাড়ী ফিরেছে,সারা সকাল টা কিচ্ছু খাই নি।তাই তানিয়া রোজ দুপুরে খাওয়ার সময় মোবাইল টা দিয়ে দিত।একদিন তানিয়ার মনে হলো এইটুকু বয়সে এতো মোবাইল দেখাটা একদমই ঠিক হচ্ছে না।খুব বকাঝকা করলো ছোট্ট টিউলিপকে।টিউলিপ কিছুতেই শুনবে না।টিউলিপ হঠাৎ করে বলে উঠলো-আমাকে তাহলে একটা মোবাইল কিনে দাও,মোবাইল ছাড়া আমার ভালো লাগে না,মা।তানিয়া টিউলিপ এর কথা শুনে হতবাক।কি করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না।

রাত্রে খাবার সময়ও টিউলিপ এর মোবাইল চাই।তানিয়া মোবাইল না দিয়ে টিভি চালিয়ে দিত মাঝে মাঝে।কিন্তু এইভাবে টিভি আর মোবাইল দিতে দিতে একদিন তানিয়া বুঝতে পারলো যে তানিয়া ঠিক করছে না,এত টিভি আর মোবাইল দিয়ে,এতে টিউলিপ এর খুব ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।
একদিন রাত্রে ঘুম পাড়ানোর সময়,তানিয়া ঠিক করলো টিউলিপ কে এমন একটা গল্প শোনাবে যাতে ও পরের দিন থেকে মোবাইল না দেখে।
তানিয়া : সোনা ,আজ তোমাকে পরীদের গল্প শোনাবো,দেখবে রাত্রে স্বপ্নে জাদু হবে।
টিউলিপ: মা ,কিসের গল্প,বলো।
তানিয়া: তাহলে বলি-
টিউলিপ : বলো।
তানিয়া: একটা পরী ছিল,কি সুন্দর সাদা রঙ্গের গাউন পরে ছিল,আর পিঠে ডানা ছিল ।পরীর একদম ই ঘরে থাকতে ভালো লাগছিলো না। তাই সে বেরিয়ে পড়লো মাঠে।খোলা মাঠ,মাঠের ওপরে ছোট্ট ছোট্ট সবুজ ঘাস,বিশাল বড় মাঠ,নীল আকাশ যেন মাঠের শেষে মিশে গেছে,সাদা সাদা তুলোর মতো মেঘ আকাশের গায়ে সরে সরে যাচ্ছে,মাঠের ডানদিকে আগাছাগুলোর মধ্যেও কত নীল সাদা ফুল ফুটে আছে,আর প্রজাপতিগুলো একবার নীল ফুলে আরেকবার সাদা ফুলে বসছে।পরী টা শুধু ভাবতে থাকে -ইস,আমি যদি ওই মেঘের পিঠে চেপে আকাশের সর্বত্র ঘুরে বেড়াতে পারতাম,এইরকম ভাবতে ভাবতে হঠাৎ কখন আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গেল।পরী টা শুধু দেখছে দুটো কালো মেঘ কেমন করে ধাক্কা লেগে পৃথিবীর বুকে বৃষ্টি নামিয়ে সব কিছুকে শান্ত করে দেয়।হঠাৎ পরী নিজেও স্নিগ্ধতা অনুভব করলো,পরী দেখলো তার ডানাদুটো বৃষ্টির ছোঁয়ায় শীতল হয়ে গেছে।আর তাই পরী ডানাতে ঝাপটা মারলো,আর সেই দুটো ডানা থেকে বৃষ্টির ফোঁটা তার নিচে থাকা প্রজাপতির ডানায় পড়ল,আর তখন ই প্রজাপতিটাও আনন্দে ডানা ঝাপ্টালো,আর সেই বৃষ্টির ফোঁটা প্রজাপতির নিচে থাকা ফুলের পাপড়ি তে পড়লো, ফুল টা আরো প্রস্ফুটিত হয়ে উঠলো।পরীর এইসব কিছু দেখতে খুব মজা লাগছিলো।পরীর এমন সময় তার মায়ের কথা মনে পড়লো আর মনে মনে তার মাকে বললো,মা তুমি ঠিক করেছো আমার কাছ থেকে মোবাইল টিভি ছিনিয়ে নিয়েছো।এইসব কিছু ভাবতে ভাবতে কখন যে বৃষ্টি থেমে আকাশে আবার সাদা মেঘের ভেলা বইতে শুরু করেছে,পরী তা টের পাই নি।পরী আনন্দে নাচতে নাচতে মায়ের কাছে যায় আর মা কে বলে-মা জানো তো আজ আমি জ্যান্ত টিভি দেখেছি।তুমি ঠিক বলতে মা,ঘরের টিভি টা বড্ডো ছোট্টো,মোবাইল টাও খুব ছোটো কিন্তু বাইরের এই বড়ো মোবাইল টা খুব খুব বড় মা।যখন আমি তোমার মোবাইলে ডোরেমন দেখি,ডোরেমন কে চুমু  দিলে, ও আমার দিকে ফিরেও তাকাই না মা,আর টিভি তে যে প্রজাপতিগুলো দেখি, তাদের কে ছুঁলে সাড়া দেয় না।কিন্তু আমার এই বিশাল বড়ো টিভি তে আমার ছোঁয়ায় প্রজাপতি ডানা ঝাপটেছে,প্রজাপতির ছোঁয়ায় ফুল পাপড়ি মেলেছে। মা,কিন্তু আজ বৃষ্টি টা কিভাবে থেমে গেল সেইটা দেখতে ভুলে গেছি,তোমার কথা ভাবছিলাম বলে।আর কখনও ঘরের টিভি দেখবো না মা।ভগবানের এই পৃথিবীটা বিশাল বড় টিভি।কত লোক,কত গাড়ী, কত রাস্তা।আবার কোথাও শুধুই খোলা মাঠ,মাঠের শেষে আকাশটা নিচে নেমে গেছে,আর পায়ের নিচে শুধুই সবুজ ঘাস,সকালবেলা ঘাসের মধ্যে শিশিরবিন্দু,আবার কখনো সারা আকাশ কালো মেঘে ঢাকা,এই বৃষ্টি এই রোদ। মা জানো,যখন এই বিশাল টিভি তে বৃষ্টি পড়ে,আমি ভিজে যাই কিন্তু ঘরের এই ছোট্ট টিভি তে যখন বৃষ্টি পড়ে,শুধু ডোরেমন ই ভিজে আমি ভিজি না।ঘরের টিভি টা বড্ডো বাজে।
টিউলিপ হটাৎ করে বলে ওঠে – মা,আমাদের ঘরের টিভি টাও তো বাজে,টিভি তে বৃষ্টি পড়লে আমিও ভিজি না মা। মা আমিও কাল থেকে বাইরের ওই বিশাল বড় টিভি টা দেখবো। কিন্তু মা ওই বিশাল মাঠে আমাকে কে নিয়ে যাবে ?
তানিয়া : তুমি জানালা দিয়ে দেখবে,ছাদে মাসির সাথে গিয়ে দেখবে তোমার জ্যান্ত টিভি।আর ছুটির দিনে আমি তোমাকে বিশাল বড় মাঠে নিয়ে যাবো।
টিউলিপ:ঠিক আছে মা,তুমিই ঠিক বলেছ মা।

তানিয়া মনে মনে ভাবে তাহলে আমার ছোটো টিউলিপ কাল থেকে প্রকৃতির দেওয়া বড় টিভি দেখবে তো ?? ঘরের ছোট্ট মোবাইল আর টিভি কে ত্যাগ করতে পারবে তো ??