পরিবেশ

 
picture of an environment with creatures এর ছবির ফলাফল

পরিবেশ – মাত্র ৪টি বর্ণের শব্দ। কিন্তু এই চারটি বর্ণের ছোট্ট শব্দটিই নিয়ন্ত্রণ করছে এই সৃষ্টিকে। এই শব্দটি ই জন্ম আর মৃত্যু দিয়ে ভারসাম্য বজায় রেখেছে। শব্দটি ছোট্ট হলেও শব্দটি প্রচুর তাৎপর্যপূর্ণ। এই বিশাল পৃথিবীতে অসংখ্য প্রাণীর আর অসংখ্য উদ্ভিদের অস্তিত্ব বিরাজমান। প্রতিটি প্রাণীর বা উদ্ভিদের সৃষ্টির কারণ একটাই – পরিবেশ। সিমেন্ট এর মেঝের ওপর যদি প্রত্যহ জল ফেলা হয়,একদিন শ্যাওলা জন্ম নেবে আবার খড় এর ওপর রোদ আর জল নিয়মিত পড়তে থাকলে একদিন ছত্রাক জন্ম নেবে। মানুষের মাথায় তেল,জল, আর নোংরা নিয়মিত পড়তে থাকলে উকুন জন্ম নেবে আবার নোংরা হাতে খাবার খেলে পেটে কৃমি জন্ম নেবে। একইরকম ভাবে কেঁচো ,কাঁকড়াবিছে ,কেন্নো এই সকল প্রাণীর জন্মানোর পরিবেশ স্বতন্ত্র।যত রকমের প্রাণী বা উদ্ভিদ ঠিক তত রকমের পরিবেশ।আর জল ,বায়ু,মাটি বা আধার এই তিনটে পরিবেশের প্রধান উপকরণ।  মাটি বা আধার জিনিসটাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যেসব প্রাণী মানুষের শরীরের মধ্যে জন্ম নেয়,তারা কখনোই খোলা হাওয়ায় মাটির মধ্যে জন্ম নিতে পারে না। আবার যেসব প্রাণী খোলা হাওয়ায় মাটির মধ্যে জন্ম নেয় তারা কখনোই মানুষের শরীরে জন্ম নিতে পারে না। কি পরিমান জল ,কি পরিমান বায়ু  আর কি রকমের আধার এই তিনটে উপকরণের মাত্রার বিন্যাস সমবায়ের খেলাতেই পৃথিবীর বৈচিত্র্য বিরাজমান।

প্রতিটি প্রাণী বা উদ্ভিদ নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্য অনবরত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ,আর সেই কারণে এই পৃথিবী থেকে জল ,বায়ু  নিজের প্রয়োজনমতো টেনে নিচ্ছে। এমন কি ব্যাক্টেরিয়া ,ভাইরাস গুলো ও এই বেঁচে থাকার লড়াই  এর ভাগীদার। তাই জল,বায়ু দূষণ আটকানো আমাদের দায়িত্ব। জল ,বায়ু আর আধার যত খাঁটি আর শুদ্ধ থাকবে,সৃষ্টি ততই বলবান হয়ে উঠবে। 

বাবা তোমার জন্য

দেখতে দেখতে কেটে গেলো তোমার ৭০ টা বছর। ইচ্ছে করছে আজ তোমার মুখ  থেকে কিছু শুনি জীবন সম্পর্কে তোমার কি মতামত। তবে তোমারটা শোনার আগে কিছু কথা আমি বলি যেগুলো আমি কখনো ভুলবো না।

ফিরে যাওয়া যাক পুরানো দিনগুলোতে। সেই তুমি কখনো সাদা জামা ছাড়া অন্য কোনো রং এর  জামা পরে স্কুল এ যেতে না। সত্যি তোমার ব্যক্তিত্বের কোনো তুলনা হয় না। তুমি ছিলে আমার স্যার।  প্রচুর ভয় পেতাম তোমাকে।ঘরের মধ্যে বা স্কুল এ সব জায়গাতেই তোমাকে ভয় পেতাম।স্কুলে তোমার সাথে আমার্ সম্পর্কটা ছিল শুধুই স্যার আর ছাত্রীর সম্পর্ক। কিন্তু ঘরে তুমি এক দায়িত্ববান পিতা। তুমি ক্লাসরুমে ঢোকার আগেই শুরু করে দিতে তোমার বক্ত্যব্য ,তুমি কি পড়াতে চাও সেইসব। ঠিক তেমনি বাড়িতেও  ঘুম থেকে উঠেই দেখতাম সবার হোমওয়ার্ক দেওয়া হয়ে গেছে। আমরা এতগুলো বোন ,সাথে থাকতো দাদা।  সব মিলে ৭ জনের হোমওয়ার্ক ,বিভিন্ন ক্লাস এর হোমওয়ার্ক।শুধুই কি হোমওয়ার্ক ? ভোরে দিতে হোমওয়ার্ক আর খুব সকালে মা এর সব গামলা ভরিয়ে রাখতে ,কুয়ো থেকে জল তুলে।গামলা ,কলসি  সব পাত্র গুলো ভরিয়ে রাখতে। 
চা করাটা কার কাছে শিখলাম সেটা মনে নেই। তবে একটা বকুনি না বলে পারছি না। মাঝে মাঝে সকালবেলা আমি চা করতাম। তখন আমি ক্লাস ৭ কি ৮ এ পড়ি। তুমি আমাকে চা করতে বলে পর দোকান দিকে চলে গেলে।আমি তোমায় ডেকে চা দিয়ে এলাম।একটু মুখ লাগিয়েই তুমি ডাকলে আমায় বললে – বাঃ ,খুব ভালো চা করেছিস তো ,সমুদ্রের জলের মতো। সেইদিন আমি খুব ভয় পেয়ে গেছিলাম। যদিও বরাবরই আমি তোমাকে খুব ভয় পেতাম।
আমরা সব ভাই বোনেরা তোমাকে প্রচুর ভয় পেতাম। সাদা কালো টিভি ছিল আমাদের বাড়ি তে।  টিভি টা বোধ হয় প্রয়োজনেই দেখা হতো। আইপিএল ম্যাচ  কিংবা দুর্দান্ত কিছু খবর থাকলেই তুমি টিভি টা খুলতে দিতে। কিন্তু আমাদের খুব ইচ্ছে করতো কিছু সিরিয়েল বা সিনেমা দেখতে। মনে আছে  আমি আর বোন সবচে ছোট বলে দাদা আর দিদিরা মিলে আমাদের কে বলতো তোমার কাছ থেকে পারমিশন নিতে।আমরা পারমিশন পেলেই আমি আর বোন বসে পড়তাম টিভির রুমে। তুমি দেখলে আমি আর বোন টিভি দেখছি।  তুমি নিচে চলে যাওয়া মাত্রই বাকি গ্রুপ এসে বসে পড়ত টিভির রুমে।
ক্লাস ৮ এ আমি পড়ি তখন।  মনে পরে একটা দিনের বিকেল এর কথা।  তুমি ঘরে ঢুকেই বললে -আজ একটা সুখবর আছে। আমরা সব বোনেরা উদগ্রীব কি খবর টা শোনার জন্য। তুমি বললে -তিনটে মেয়ে স্কলারশিপ পেয়েছে আমাদের স্কুল থেকে আর আমার নাম সবার আগে। এখন সব কিছু যখন একসাথে করে ভাবি তখন মনে প্রশ্ন জাগে যে তুমি তো সব সময় বা অকারণে আমাদের বকতে না। তাও  আমরা তোমাকে বাঘের মতো ভয় পেতাম কেন ?

তবে এই ঘটনাটা আবার দেখিয়ে দেয় যে ভয় পাওয়া টা আমাদের স্বাভাবিক ছিল। রাত্রি তখন ১০টা হবে। এখনকার দিনে কলকাতা শহরে রাত্রি ১০ টা রাত ই নয়। কিন্তু আমাদের গ্রাম টা সেই সময়ে ছিল একটু অন্যরকম। রাত্রি ৮-৯টার মধ্যেই সবাই ঘুমিয়ে পড়তো। বাবা মার্ রুমে বাবা মা ঘুমোচ্ছে।  আমরা বোনেরা কিন্তু জেগে আছি ,তবে পাশের রুমে।ছোটদি আর  দাদা মিলে আমাকে আর বোন কে বললো -“বাবা মা এর ঘরে দরজার পেছনে ওপরের দিকে একটা পেরেকে একটা থলে ঝুলছে আর তার মধ্যে কালকের  পুজোর কলা আছে।, যা না , তোরা দুজনে মিলে নিয়ে আয় ,বাবা মা তো ঘুমিয়ে গেছে”।ব্যাস আমরা ছোট্ট দুই বোন ওদের কথা মতো ঘরে ঢুকে যেই থলে টা পাড়তে যাই ,একটা জোরে আওয়াজ হয়, সেই আওয়াজ পাওয়া মাত্র বাবা জেগে ওঠে আর বোন দৌড়ে চলে যায়। বাবা বলে – কে ওখানে ?আমি সরল বা বোকা যাই বলো না কেন মাথা নিচু করে উত্তর দিই- আমি। তুমি বললে – লাইট টা জ্বালা।আমি জ্বালালাম। তুমি আমাকে তোমার কাছে ডাকলে।আমি ভয়ে মাথা নিচু করে গেলাম।তুমি বললে -কি বার করছিলিস? আমি বললাম ওরা  আমাকে কলা বার করতে বললো।তখন মা চিৎকার করে ওঠে পুজোর কলাগুলো তে হাত দিয়েছিস ?তুমি বললে কান ধর, আর এক পা তুলে দাঁড়িয়ে থাক। আমি সেইভাবেই দাঁড়িয়ে রইলাম আর আমার চোখ দিয়ে জল পড়তে থাকলো।কয়েক সেকেন্ড এর মধ্যেই তোমার কঠিন হৃদয় গোলে গেলো।তুমি বললে -আয় আমার পাশে শুয়ে পড়।  আমি তখনো ভয়ে কাঁপছি।তুমি আমাকে খুব আদর করলে, ভালোবাসলে। তারপর ঘুম ও পাড়িয়ে দিলে।একেই কি বলে বাবার ভালোবাসা ?কিন্তু বাবা আজ আমাদের হাতে টাকা ,তবুও কলা খেতে ভালো লাগে না , তখন কলা টাকে অমৃত লাগতো।তুমি শাসন ও করেছো আবার ভালোও বেসেছো। দুটো একসাথে ম্যানেজ করা খুব টাফ। আজ আমি মা হয়ে বুঝতে পারি।

তোমার মুখ থেকেই শোনা এই সত্যিকারের গল্পটা আজ বলা যাক। যদিও এই গল্পের আমি শ্রোতা ছাড়া কিছুই নই। জানি না সেই দুটো ছেলে এইটা পড়ার পার বুঝতে পারবে কিনা যে এইটা তাদেরকে নিয়েই লিখা।তোমারেই দুজন ছাত্র। ক্লাস এইট কি নাইন এ পড়ে হয়তো। ঘটনাটা শুরু করার আগে তোমার ক্লাস এর ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে কিছু বলা যাক। তুমি ক্লাসে পড়ার মাঝে মাঝে হটাৎ করে প্রশ্ন ছুঁড়তে। প্রশ্ন টা ভালো খারাপ নির্বিশেষে সব্বাইকে ছুঁড়তে। তাই ভালো খারাপ সব্বাই তোমার ক্লাস এ চুপটি মেরে থাকতো। কেও বদমায়েশি করলে বা ক্লাসে প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে তুমি তার কান মোলে দিতে।এইটা খুবই হাস্যকর।কারণ তুমি ঠিক কান মলতে না। সেটা আমিও লক্ষ্য করেছিলাম সেই সময়ে। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে তোমাকে সেটা নিয়ে কোনো প্রশ্ন করার সাহস পেতাম না। অবশ্য পরে যখন কলেজ এ পড়তাম ,তখন তোমাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম।তুমি তার কারণ ও বলেছিলে। যদি সেটা ছাত্রী হতো তুমি তার কানের দুল ধরে হালকা টোকা মারতে।আর যদি সেটা ছাত্র হতো তাহলে তুমি কানের পাতার নরম অংশ টা ধরে হালকা টোকা মারতে। কারণ হিসেবে তুমি বলেছিলে “শাসন করাটাই উদ্দেশ্য ,কিভাবে সেটা ম্যাটার করে না, আর তাছাড়া ওদের কানে খুব নোংরা ,শুধু শুধুই আমার হাত নোংরা করতে যাবো কেন ?”

তাই সাধারণভাবেই থমথমে ক্লাস চলছে।হটাৎ ওই দুটো ছেলে বাজে রকম আওয়াজ করে। তোমার চোখে ফাঁকি দেয়,কার এতো বড় সাহস ?ব্যাস তুমি রেগে গেলে।চিৎকার করে তাদেরকে দাঁড়িয়ে থাকতে বললে যেটা সবাই বলে।সাথে খুব জোরে মেরেছিলে ওদের হাতে।প্রশ্ন টা হল এতে নতুনত্বের কি আছে ? কিন্তু ঘটনাটা এখানেই শেষ হয় নি। সেই দুটো ছেলে অনেকবার সরি বলেছিলো ,সারা ক্লাস দাঁড়িয়েও ছিল। ক্লাস শেষ করার আগে তুমি তাদের কে অফিসের সামনে দেখা করতে বলেছিলে। তারা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে ক্লাস শেষ করেই তোমার সাথে দেখা করেছিল।তুমি তখন বলেছিলে লাস্ট ক্লাস এর পর দেখা করতে কারণ তুমি তখন ব্যস্ত  ছিলে। ওরা লাস্ট ক্লাসের পর অফিসের সামনে হাজির হয়েছিল। তুমি তখন তাদের বললে স্কুল গেট এর সামনে যেতে, আর অপেক্ষা করতে তোমার জন্য।তুমি তারপর গেট এর সামনে দেখা করলে ওদের সাথে। আর বললে তরনির দোকানের সামনে অপেক্ষা করতে। তুমি গিয়ে দেখলে ওরা দাঁড়িয়ে আছে। তুমি তাদের দোকানের ভেতরে গিয়ে বসতে বললে।ওরা বসলো। তুমিও তাদের পাশে বসলে। আর ওদের খুব বোঝালে ,একটু পর ই মিষ্টি চলে এলো ওদের সামনে। এই মুহূর্ত তা ওদের জীবনে একটা ট্রানজিশন পিরিয়ড ছিল। ওরা সেটা স্বীকার ও করেছিল।তারপর থেকে ওরা ক্লাসে খুব attentive থাকতো। ওদের জীবনটাই বদলে গিয়েছিলো। আমার তো মনে হয় ওদের সাফল্যের পেছনে তোমার অবদান অনেকটাই।

আরেকটা ঘটনাও বলা যাক। আমরা চার বোন আর দাদা হ্যারিকেন এর আলোয় একটা মাদুরে বসে পড়াশুনো করছি।সন্ধ্যেবেলা ,কি কাল সেটা ঠিক মনে পড়ছে না তবে খুব গরমকাল তো নয় কারণ গরমকালে আমরা ছাদে পড়তাম। আমাদের ঘরের নিয়মকানুন নিয়ে আগে কিছু বলা যাক। তুমি আমাদের খুব শাসন আর নিয়মের মধ্যে মানুষ করেছো। তবে সেই নিয়মগুলো healthy, যেমন হাতে একটুও নখ থাকা চলবে না, চুল খুলে রাখাও তোমার পছন্দ ছিল না।বিকেল  ৪-৫ টা ছিল আমাদের খেলার  সময়। আমি আর বোন ই খেলতে যেতাম ,আর দিদিরা কেও যেত বলে মনে পড়ছে না। গরমকালে খেলার সময়টা ছিল ৫-৬ টা। ৬টায়  বাড়িতে এসে পর হাত পা ধুয়ে প্রাথনায় বসতে হতো। সেটাও দেখার মতো ছিল। আমরা ৭ জন মিলে মাদুরে বসে প্রতিদিন সন্ধ্যেবেলায় প্রার্থনায় বসতাম। সাথে মা আর ঠাকুমাও থাকতো। আর মাঝে মাঝে তুমি ফাঁকা থাকলে তুমিও আমাদের সাথে বসতে। মেজদি বা বড়দি করতাল বাজাতো। ভগবান আছেন কিনা জানি না তবে এইটুকু বলতে পারি ভগবানের ওপর বিশ্বাস করে বাঁচতে ভালো লাগে। মনে হয় যেন মাথার ওপর একটা ছাদ আছে। মনে হয় খারাপ কাজ করলে তার সাথেও খারাপ হবে। কাওকে আঁকড়ে ধরে থাকতে ইচ্ছে করে। আর সেটা আমাদের মনের  মতো বানানো ভগবান হলে অনেক শক্তি পাওয়া যায়। তোমরা যারা ভগবানে বিশ্বাস কারো না তাদেরকে শুধু এটাই বলবো যে ওই প্রার্থনাগুলো করে মনে জোর পেতাম। তবে এই যে সব ভাই বোনে মিলে একসাথে প্রার্থনা করার রেওয়াজ সচরাচর কোথাও দেখা যায় না। প্রার্থনার পর আমরা সবাই পড়তে বসতাম।আমরা সবাই পড়ছি ,আমি দরজার দিকে পেছন ঘুরে বসেছিলাম।আর  দাদা ঠিক আমার উল্টোদিকে বসেছিল। তাই যথারীতি দরজা দিয়ে কেও এলে দাদাই প্রথম দেখতে পাবে। বাবা তখন বাজারে বা নিচে। আমরা ওপরতলায় পড়াশুনো করতাম। আমরা জানতাম যে বাবা তো ওপরে নেই ,তাই সব্বাই মিলে গল্প টা বেশ জমে গিয়েছিলো। ছোটদির একটা বাজে অভ্যাস ছিল ,চুল পেলেই ল্যাম্প এ ঢুকিয়ে তা পুড়িয়ে দিতো।আর চুল পোড়ার গন্ধ টা খুব বাজে। আমাদের গল্পের আসর তা ভালোই জমে যখন বাবা থাকতো না। আমাদের এই বৈঠক খানার নাম দেওয়া হয়েছিল বিদ্যাসাগর টেবিল। আর ছোটবেলা থেকেই আমি টুকটাক হাস্যকর কবিতা লিখতাম বলে দাদা আমার ছদ্মনাম দিয়েছিলো গোরাচাঁদ বাউরি। আমি তখন খুব ছোট ,নাম টা আমার পছন্দ হয় নি বলে খুব রাগ করেছিলাম। আমাদের আসর জমে গেছে ,ছোটদি মনের আনন্দে চুল পোড়াচ্ছে আর আমরা শুধু বকবক করে যাচ্ছি। এমন সময় হটাৎ দেখি দাদা চুপ হয়ে গেছে। আমি দাদা কে বলছি দাদা কি হয়েছে ,কিছু বলছিস না যে।দাদা মাথা  নিচু করে বলছে জ্যাঠাবাবু দেখছে। তখন আমি পেছন ঘুরে দেখি তাইতো বাবা দরজার ফাঁক দিয়ে আমাদের কে দেখছে আমরা পড়ছি কিনা। তারপর আমিও জোরে জোরে পড়তে লাগিয়ে দিই। বাবা,এইরকমই কড়া শাসন ছিল তোমার।আজ সত্যি মনে হয় তোমার শাসন ই ভালো ছিল। ছোটবেলাটাই ভালো ছিল।

বাবা তুমি সন্ধ্যেবেলায় রোজ আমাদের সাথে প্রার্থনায় না বসলেও সকালবেলা সব কাজ সেরে তুমি প্রার্থনায় বসতে।আর আমি তোমাদের সাথে ঘুমোতাম বলে আমার ঘুম ভাঙতো তোমার প্রার্থনায়। সেই মুহূর্তটা আমি আজ ও ভুলতে পারি না। তুমি হয়তো ভাবতে আমি ঘুমিয়ে আছি ,কিন্তু না আমি জেগে শুয়ে থাকতাম তোমার প্রার্থনা শুনবো বলে। দুষ্টুমি তে ভরা ছিল আমাদের পরিবার। সবার আগে আমার দুষ্টুমিগুলো দিয়ে ই শুরু করি। তখন আমি ক্লাস ফাইভ কি সিক্স  এ পড়ি। বাবা মাঝে মাঝে আমাকে বধূ ময়রার দোকান থেকে মিষ্টি নিয়ে আস্তে বলতো। টাকা সাথে সাথে দিতাম না। ধারে নিয়ে আসতাম। বাবা ,মাসের শেষে শোধ করতো। বাবা ২ টো দরবেশ আনতে বললে আমি তিনটে আনতাম।বাবা চারটে পেরা আনতে বললে আমি পাঁচটা আনতাম। ওই এক্সট্রা  টা আমি আনতে  আনতে  রাস্তা তেই খেয়ে নিতাম। এইভাবে কয়েক মাস চললো। যখন দেখলাম বাবা কিছুই বলছে না , তখন বুঝলাম যে বাবা বুঝতে পারে নি। এই করে আমার লোভ টা আরো বেড়ে গেলো। বাবা ২টো  দরবেশ আনতে বললে আমি তার সাথে আরো একটা দরবেশ আর দুটো পেরা জুড়ে দিতাম। আইটেম টাও এক্সট্রা নিতাম আর পরিমাণেও বেশি নিতাম। ব্যাস ,বাবা এইবার ধরে ফেললো। আর কথা কাটাকাটি শুরু হয় দোকানদার এর সাথে বাবার।  বাবা সেটা বাড়ি তে এসে সবার সামনে বলে যে দোকানদার এর কাছে এতো বেশি বিল হলো কি করে ,আগের মাসে তো দরবেশ কিনি ই নি। বাবা , আমাকে প্রশ্ন করলো। আমি ভয়ে মাথা নিচু করে বলেছিলাম -জানি না। কই ,বাবা ..সেইদিন তো তুমি আমাকে বকুনি দাও নি। সত্যি ,বাবা তুমি যে আমাদের কে বকুনির চেয়ে ভালো টাই বেশি বাসতে এই ঘটনায় তা পরিষ্কার বোঝা যায়। আজ এইসব মনে পড়লে প্রচুর হাসি পায় এইটা ভেবে তখন খেতে কত ভালোবাসতাম।  আজ খাওয়া টাকে শুধু কাজ মনে হয়।

প্রকৃতি

এই যে তুমি ,তোমরা কখনো ভগবান কে দেখেছো ? যাকে তোমরা কখনোই দেখো নি তাকে তোমরা কত ভালোবাসো ,তাঁর জন্য কত মন্দির তৈরী করেছো, কত পুজো দাও ,কত উপোস করো। সেই ভগবান কে নিয়ে তোমাদের কত আদিখ্যেতা।

একবার ভেবে দেখো তো যদি তোমরা তাকে দেখতে পেতে তাহলে কি একইরকম ভাবে ভালোবাসতে ? কিছু কিছু জিনিস অদৃশ্য থাকাই বোধ হয় ভালো ,এতে সেই অদৃশ্য জিনিসের মূল্য বেড়ে যায়। হঠাৎ করে কোনোদিন যদি সারা বিশ্বে দৈববাণী হয় যে বৈশাখ মাসের প্রথম দিনে পুরি তে ভগবান আসছেন সব মানুষের সমস্যার সমাধান করতে ,যেটা সম্ভব নয় ,তবুও তর্কের খাতিরে যদি এমনটাই ধরে নিই ,কী হবে তোমাদের প্রতিক্রিয়া ? আমার তো মনে হয় বেশিরভাগ মানুষ দুদিন আগে থেকেই ওখানে হাজির হবে ,আর বাকিদের মধ্যে কিছুজন নিজেকেই ভগবান ভাবে বা ভগবানে বিশ্বাস করে না বলে যাবে না ,আরও কিছুজন সুখী বলে যাবে না। ভগবান কিন্তু কাউকে সারাজীবন অসুখী রেখেছে এমনটা নয়,তবে সুখ জিনিষটা আপেক্ষিক ব্যাপার, তবুও যারা ভগবানের কাছে বর্তমানের সমস্যার কথা জানাবে তারাই অতীতের সুখের কথা জানাবে না।  তাহলে সেই ভগবানের সেই বিশেষ দিনের কথা ভাবা যাক। শুধু অভিযোগ আর অভিযোগ শুনে যাবেন ভগবান। এতো চিৎকার চেঁচামিচি হবে কিন্তু কেউই বলবে না যে “তুমি যা দিয়েছো তা অনেক ,আমি যেন এইভাবেই চলতে পারি ,তোমার সৃষ্টি এই অসীম বিশ্বব্রম্ভান্ডের একটা অংশ হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি ,আর কোনোভাবেই যেন এই সুপ্রিম পাওয়ার কে কষ্ট না দিই”। আর সেইজন্যই ভগবান দেখা দেন না,আর তিনি ঠিক ই করেন।
সত্যি ই কি ভগবান আছেন ?একবার শুধু কল্পনা করো-সূর্য  আর তার চারিদিকে কত গ্রহ ঘুরে চলেছে অবিরত।সূর্য আর পৃথিবীর মাঝে শুধুই শূন্যতা। যদি ভগবান থেকেও থাকেন নিশ্চয় তিনি শুধু পৃথিবীতে নেই,শুধু পৃথিবীতে থাকলে তো চলবে না ,সেই ভগবান কে তো সূর্যের গতি,তাপমাত্রা এর দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।  তাহলে তিনি এই মহাশূন্যে আছেন যেখান থেকে তিনি পুরো সৌরজগৎ কে দেখতে পাবেন। কিন্তু এই সৌরজগতের মতো কোটি কোটি আরো সৌরজগৎ যদি থেকে থাকে ,আর ভগবান যদি এক আর  অদ্বিতীয়া হয়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয় তিনি কোটি কোটি সৌরজগতের মাঝে আছেন। আর এই মানুষ সামান্য একটা মন্দিরে বসে উপোস করে ভগবান কে যদি ডাকতে থাকেন,তাও আবার নিজের ভালোর জন্য ,কৃতজ্ঞতা স্বীকারের জন্য নয় -ডাকতে থাকেন ,তাহলে যে ভগবান এই কোটি কোটি সৌরজগতের দায়িত্ব নিয়ে অবিরত ধ্যান বা সাধনা করে চলেছেন ,তাঁর কাছে আমাদের এই তুচ্ছ প্রার্থনা শুধু নিজেকে ভালো রাখার প্রার্থনা কি পৌঁছায় ?নাকি আমাদের সব প্রার্থনাগুলো স্প্যাম বক্সে জমা হতে থাকে ?তাই পূজা ,উপোস এ সময় নষ্ট না করে আমাদের মন দেওয়া উচিত কর্মের দিকে। কিন্তু ভগবান কে বিশ্বাস না করলে মনে হয় মাথার ওপর কেউ নেই। মনে হবে এক বিশাল ছাদের টিলা ছাদের কোনায় তোমাকে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে তুমি যে কোনো সময় মহাশূন্যে বিলীন হয়ে যেতে পারো। তাই ভগবান কে বিশ্বাস তো অবশ্যই করতে হবে ,কিন্তু ভগবানের সংজ্ঞা টা বদলে নেওয়া দরকার। একটা উদাহরণ দেওয়া যাক : এক বিশাল বড় কোম্পানী এর এক সামান্য নিচু লেভেল এর কর্মীর কথা ভাবা যাক। কোম্পানীর  মালিক কে এই কর্মী কখনো দেখে নি বা দেখার প্রয়োজন ও মনে করে নি। কিন্তু এই কর্মী যদি খুব বাজে কাজ করে থাকে ,তাহলে সেই খবর পুরো কোম্পানি তে ছড়িয়ে পড়বে ,খুব কম সময়ের মধ্যেই।আর শীঘ্রই সেই কর্মী কে বরখাস্ত করে দেওয়া হবে কোম্পানি থেকে ,কোম্পানির মালিকের অনুমতি ছাড়াই।কিন্তু যদি উল্টো টা ঘটে ,ধরে নেওয়া যাক ,সেই কর্মী খুব ভালো কাজ করছে ,এমন কি তার কর্মদক্ষতার জন্য কোম্পানির আয় কিছুটা হলেও বাড়ছে। এই ক্ষেত্রেও মালিক এর কাছে কিন্তু এই কর্মীর কথা পৌঁছবে না। মালিক শুধু জানবে প্রজেক্ট টা ভালো চলছে। কর্ম অনুযায়ী ফলাফল পাওয়ার জন্য কর্মীর ঠিক ওপরের লেভেল এর কর্মীরাই দায়ী থাকবে।ঠিক তেমনি আমাদের ভালো বা খারাপের জন্য আমাদের এই সৌরজগৎ ই দায়ী থাকবে। কোটি কোটি সৌরজগতের যিনি মালিক তিনি হলেন ভগবান। তাই আমাদের সৌরজগৎ কে স্বাস্থ্যবান রাখা উচিত। আর তার জন্যই পরিবেশের খেয়াল রাখা উচিত।
তাহলে ভগবান বলতে বোঝায়  অসীম শক্তি ,সেই শক্তি ,এই সৈর শক্তি ,মহাকাশ ,হাজারটা সৌরজগতের মিলিত শক্তি। আর আমরা সেই শক্তিরই একটা অংশ মাত্র।  মানুষ মরে গেলে মানুষের সেই শক্তি মিশে যায় সৈর শক্তির সাথে।  আবার দুটো কোষের মিলনে যে প্রচুর শক্তি বিকিরণ হয় সেই থেকেই জন্ম হয় একটা মানুষের। প্রতিটা প্রাণ একটা শক্তির রূপ মাত্র।যেমন যান্ত্রিক শক্তি,তড়িৎ শক্তি ,ঠিক তেমনি প্রাণশক্তি। বেশি শক্তি কম শক্তি কে নিজের দিকে টেনে নেয় আর তাইতো মানুষ সমুদ্রের বিশাল ঢেউ এ তলিয়ে যায়।আমার কাছে প্রকৃতি ই ভগবান।  আমার কাছে যা কিছু হৃদয় দিয়ে অনুভব করা যায় তাই ভগবান।
আজ পৃথিবীটাই বদলে যেত যদি আমরা সবাই আমাদের বাবা,মা, ভাই বোনকে ভগবান ভাবতাম।  বৃদ্ধাশ্রম এর খরচ টা বেঁচে যেত আর সেই টাকায় অনাথ আশ্রম বানানো যেত। আমরা যদি প্রকৃতির এই শক্তি কে ভালো কাজে লাগাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে প্রকৃতি ও আমাদের অনেক কাজের সমাধান করে দেবে।  আসলে আমরা প্রকৃতির শক্তি কে মোবাইল এর চিপস এ ,কম্পিউটার এর হার্ড ডিস্ক এ সীমাবদ্ধ করে রাখি। একটা জিনিস কিন্তু ধ্রুব সত্য যে টোটাল শক্তির পরিমান বদলায় না ,শুধু এক রূপ থেকে অন্য রূপে যায়। আমরা প্রকৃতির শক্তি কে মেশিনের মধ্যে রাখতে চাই,প্রকৃতির শক্তিকে মেশিনের মধ্যে রেখে ভালো কাজের সাথে খারাপ কাজ ও করা হয়  আর তাই তো প্রকৃতি খেপে যায়। তাই ঠিকঠাক করে কালবৈশাখী ঝড় টাও  হতে পারে না।  মানুষ যখন ক্যান্সার রোগের ওষুধ খোঁজার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে তবু ও বার বার বার্থ্য হচ্ছে , কে জানে হয়তো এই প্রকৃতির মধ্যেই একটা সামান্য জিনিসের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে সেই দুরারোগ্য ব্যাধির ওষুধ। আর সেইজন্যই প্রকৃতির খেয়াল রাখা উচিত।প্রকৃতি কে ভালোবাসা উচিৎ। ভালোবাসলেই মানুষ আর প্রকৃতির মিলিত শক্তিতে  আমরা নতুন ভালো কিছু তৈরী করতে পারবো। আমরা যেন দিনে দিনে প্রকৃতির কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। আমাদের ছোটবেলায় প্রকৃতিকে দেখেই আমরা সময় কাল বলে দিতাম।  কিন্তু এখন বর্ষাকালেও কোকিল ডাকে, গ্রীষ্মের একটু বৃষ্টিতেই ব্যাঙ ডাকে।রাত্রি বেলাতেও মোরগ ডাকে। তবে কাশফুল এখনো শরত কালেই ফুটছে। মানুষের বেপরোয়া কাজকর্ম, উছ্রিংখল জীবনযাপনে পাখিদের জীবনযাপন বিগড়েছে।  কিন্তু এইভাবে চলতে থাকলে একদিন উদ্ভিদদেরও জীবনযাপন ব্যাহত হবে। আর তখন শরতকালে কোথাও কাশফুল পাওয়া যাবে না।শরতকাল বা বর্ষাকাল আলাদা করা যাবে না  কিংবা খুব ই কম সময়ের মধ্যে তারা বদলাতে থাকবে।

সেইজন্যই এখন থেকেই আমাদের সাবধান হওয়া উচিত। শক্তির অপচয় না করে সঞ্চয় করা উচিত। বেশি করে গাছ লাগানো উচিত। তার ও আগে যেটা করা উচিত সেটা হলো এই অসীম শক্তির কাছে আমাদের মাথা নতো  করা উচিত।  আমাদের অহংকার কে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সমাধিস্থ করা উচিত। বৃদ্ধাশ্রম না বানিয়ে অনাথ আশ্রম বানানো উচিত। ক্ষতিকারক সার প্রয়োগ না করে মাটিকে প্রাকৃতিকভাবে মজবুত করা উচিত। আর তার ও আগে আমাদের অল্পতেই খুশি হওয়া উচিত। আমাদের চাহিদা কমানো উচিত। তার মানে কিন্তু এই নয় যে আমরা নতুন প্রযুক্তিবিদ্যার প্রয়োগ করবো না ,নতুন প্রযুক্তিবিদ্যার আবিষ্কার আর সঠিক ব্যবহার -দুটোর ওপরেই সমান জোর দেওয়া উচিত। গঙ্গার জল কে কাজে লাগিয়ে যেমন অনেক কিছু করতে হবে ঠিক তেমনি গঙ্গার জল যাতে দূষিত না হয় সেই বিষয়ে খেয়াল রাখাও উচিত। প্রকৃতি কে দূষিত না করে যদি আমরা কোনো নতুন প্রযুক্তিবিদ্যার আবিষ্কার আর সঠিক ব্যবহার করতে পারি,তাহলে আমরা সবচেয়ে ভালো ফলাফল টা পেতে পারি।

পরিবর্তন 

 
আজকালকার বাচ্চারা শৈশব হারিয়েছে। হারিয়েছে spontaneousness,natural way te বড়ো হওয়া।আমাদের সময় যৌথ পরিবারের মধ্যে বড় হওয়াতে এখনকার বাচ্চাদের মতো মা কে কাছে পেতাম না। আর সেই জন্যে নিজে নিজে খেতে শিখে যেতাম কম বয়সেই। বন্ধু একটা বিশাল জিনিস ছিল। বিকেল হলেই খেলতে যাওয়া।এখনকার বাচ্চারা পুরো অন্য রকম। তাদের মা বাবা ছাড়া কেউ নেই। মা বাবা আবার থেকেও নেই। কারণ তাদের ব্যস্ত জীবন। আমরা মা বাবা কে না পেলেও কাকু কাকী পিসি ঠাম্মা দাদু কতজনকে পেতাম কাছে। এখনকার বাচ্চারা বডো একা। কি জানি কি ভবিষ্যৎ এদের। এদের পৃথিবী টা বাংলা কিন্তু স্কুল টা ইংরেজি। এরা স্বপ্ন দেখবে বাংলা তে কিন্তু পড়াশুনো করবে ইংরেজি তে। বাংলা কে অবহেলা করে তাড়াতে চাইলেও পারছে না কারণ এদের রক্তে বাংলা বংশে বাংলা। এরা ইংরেজী তে কথা বলবে বেশ ভালো কিন্তু স্বামী বিবেকানন্দ কে জানবে না। এরা যতই পরীক্ষা দিক না কেন এরা একটি মেশিন তৈরী হবে। একটা সময় আসবে এরা প্রকৃতির খামখেয়ালীকে মেনে নিতে পারবে না। দোষ এদের না, দোষ এই সমাজের।এরা প্রকৃতি কেও নিজের হাতে আনতে চাইবে। এরা ভাবতে জনবে না। ভাবার মতো এদের কে সময় দেওয়া হয় না। দুই বছর বয়স থেকেই এদের স্কুলে পাঠানো হয়। আর তখন থেকেই কেড়ে নেওয়া হয় ভাবনা চিন্তা করার অবকাশ।এরা মাটি তে মিশতে পারে না, মিশবেই বা কি করে ! এদের জন্ম তো মাটিতে নয়, এদের জন্ম high raise building এর এয়ার কন্ডিশনার রুমে। তাইতো এরা মেঝেতে খালি পা রাখলে এলার্জি হয় এদের। এরা বৃষ্টিতে একটু ভিজলেই এদের ঠাণ্ডা লাগে। কিন্তু আইসক্রীম খেলে এদের ঠান্ডা লাগে না কারন মেশিন মেশিনের সাথেই মিশতে পারে। কী অদ্ভূত তাই না? এরা swimming pool এ অনেকক্ষণ চান করলে এদের কিছু হয় না কিন্তু বৃষ্টির জলে এদের এলার্জি। আমরা pollution বাড়িয়ে চলেছি আর এরা ধোঁয়া সহ্য করতে পারে না। আমরা বলছি smoking is injurious to health আবার আমরাই cigarette এর factory বানাতে সাহায্য করছি। এরা ঊনুনের ধোঁয়া সহ্য করতে পারবে না কিন্তু কি অদ্ভতভাবে এরা cigarette এর ধোঁয়া সইতে পারবে। এরা মেশিন এর মতো life lead করতে করতে কখন নিজেরাই মেশিন হয়ে যাবে টের পাবে না।
কিন্তু যাই বলো ন্যাচারেল জিনিসের মাধুর্যকে অস্বীকার করা যাই না। আমাদের ছোটোবেলায় ভালো ছিল। হঠাৎ বৃষ্টি তে ভেজার আনন্দ টাও আলাদা। loadshading এ হ্যারিকেন এর আলোয় সবাই মিলে পড়াশোনা করার আনন্দও ভুলি নি। প্রচুর রোদে ছাতা ছাড়াই পা য়ে হেঁটে tution পড়তে যাওয়ার মধ্যে ও আনন্দ ছিল। 

আর আমাদের দুমুখো চরিত্র টাও নিষ্ঠুর কিন্তু সত্য। আমরাই খাবারে শাক সব্জিতে ভেজাল দিই আবার আমরাই সেটা বাজারে বিক্রি করি মানে খেতে বলি আবার আমরাই tv তে দেখাতে বলি এতে ভেজাল ওতে ভেজাল , খেয়ো না, খেলে শরীর এ এই হবে ওই হবে। আমরা সমস্যার সমাধান করতে জানি না। আর এরা সমস্যার সমাধান করবে tv,freeze এর মতো শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ replace করে। তবুও কারণের মূল টাকে কেউ উপড়ে ফেলবে না।