আমরাই আমাদের মৃত্যুর কারণ। আমরা সবসময় অন্যের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকি-প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে নির্ভরতা থাকবেই। ভালোবাসার মানুষটি কথা না শুনলে বা কাছে না থাকলে আমরা আমাদের অবচেতন মনকে বলতে থাকি যে -“এইভাবে বাঁচা যায় না। ” আমরা আমাদের অজান্তে জীবনের প্রতি অনীহা অনুভব করতে থাকি। আমরা বলতে থাকি -“বেঁচে কি লাভ ?শুধুই কষ্ট। “অবচেতন মন সেই কথাগুলোকে গুছিয়ে রেখে দেয়,যখন ই সুযোগ পায় সেই কথাগুলোকে কার্যে রূপান্তরিত করে। “

আমরা কিন্তু আমাদের আয়ু নিজেরাই বাড়াতে পারি, শুধুমাত্র কিছু প্রভাবশালী পজিটিভ কথা অবচেতন মনে ঢুকিয়ে ,অদম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়ে আর কার্য কে হাতিয়ার করে কার্য দিয়ে দুশ্চিন্তার অবসান ঘটিয়ে। আপনি কি কাউকে হারিয়েছেন ,যাকে আপনি খুব ভালোবাসতেন ?দেখুন ,অন্যের আয়ু কিন্তু আমরা খুব একটা বাড়াতে পারবো না ,কিছুটা অবশ্যই পারবো,তাঁকে বাঁচিয়ে রাখার অদম্য ইচ্ছা যদি আমাদের থাকে। কিন্তু সেই সাথে ওই ব্যক্তির ও বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছা থাকাটা খুবই প্রয়োজন। ওই ব্যক্তির ইচ্ছা যদি না থাকে বেঁচে থাকার,সেইক্ষেত্রে আমাদের অদম্য ইচ্ছা সফল হবে না।

আমরা কেমন ধরে নিই যে আমাদের বয়স হয়েছে, তাই আমাদের যেতে হবে। আচ্ছা কে বলেছে বলুন তো যে ৬০ বছর বয়স পেরোলেই আমাদের যাওয়ার দিন ঘনিয়ে আসে কোথাও কি সেইভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে লিখা আছে কোনো গ্রন্থে ? হাঁ ,আপনি বলবেন ৮০-৯০ বয়সে তো প্রায় ৯৮% লোক মারা যায়। এর কারণ কি জানেন ? কারণ হল -৯৮%লোক ই ভাবে যে তাদের যেতে হবে। আর ভাবে বলেই তো যেতে হয়। আমাদের ভাবনাগুলো বাস্তবায়িত হয়। আমরা কেন মরে যায় জানেন ?কারণ একটা বয়সের পর আমরা মৃত্যুকে ভালোবাসি আর সেটা আমরা বুঝতেও পারি না। আবার মৃত্যুর পরের জগৎ টাতে অনেকটা সময় থাকার পর সেই জগতের প্রতিও অনীহা জন্মে। তখন আবার আমরা জন্ম নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করি।

আসল কথা হল এই যে আমরাই আমাদের জন্ম মৃত্যু নিয়ন্ত্রণ করি। এবার আপনি ভাববেন তাহলে ঈশ্বর কি করেন। আপনি যদি ঈশ্বরকে সৃষ্টিকর্তা এবং ন্যায় বিচারক ভাবেন ,তাহলে ভাবলেন কি করে যে আপনার ইচ্ছেগুলোকে ঈশ্বর নিজে নিয়ন্ত্রণ করবেন ?আচ্ছা , আদর্শ পিতা মাতা কি বাচ্চার সব কিছু নিজের অধীনে রাখতে চান ? কখনোই চান না , বরং বলতে থাকেন -“বাচ্ছারা এখন বড় হয়েছে ,তাই ওরাই ঠিক করবে কি নিয়ে পড়াশুনো করবে ,কোথায় থাকবে আর কাকে বিবাহ করবে। “আপনি বলবেন -এই কাজগুলোর সাথে মৃত্যুর তুলনা ? আপনি ভুলে গেছেন -যে জীবনে তিনটে স্টেজ থাকে -“জন্ম,বিবাহ ,মৃত্যু। ” আমরা জন্ম আর বিবাহ এই দুটো স্টেজ কেই খুব আনন্দের সাথে খাতির করি। কিন্তু মৃত্যু ?মৃত্যু কে তো আমরা সেই চোখে দেখতেই পারি না।

মৃত্যুকে আপনি পছন্দ করেন না কিন্তু আপনার অবচেতন মন ‘মৃত্যু’কে ‘জন্ম’ এর মতোই ভালোবাসে। আপনি সেটা অনুভব করেন না। আপনার অবচেতন মন যদি মৃত্যুকে অস্বীকার করতো বা তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করতো , তাহলে আপনি হয়তো মৃত্যুকে জয় করে নিতেন। যেটা অসম্ভব কিছু নয়। মৃত্যুকে জয় করার জন্য আপনাকে নিচে উল্লেখ করা কয়েকটি জিনিস মেনে চলা আবশ্যক :

কে বলেছে আপনার বয়স হয়েছে ?যদি আপনার বয়স ৬০ হয়ে থাকে ,তাহলে হিসেবে করুন বাবা হিসেবে আপনার কত বয়স ,নিশ্চয়ই ৩০ এর বেশি হবে না। আর দাদু হিসেবে আপনার বয়স ২ কি ৩ হবে ? তাহলে কথায় কথায় কেন বলেন যে “৬০ পেরিয়ে গেলো /যাবার সময় হলো”। ৬০ এর পরে আপনাকে তো কেউ ছেলে হিসেবে বাঁচতে বলছে না , আপনি বাঁচবেন দাদু/ দিদা হিসেবে। দাদু / দিদাদের কি কোনো অধিকার নেই ৪০-৫০ বছর বাঁচার ?নাতি নাতনিদের সাথে মিশে গিয়ে নতুনভাবে জীবন কাটার ? অধিকার তো আছেই। কিন্তু দাদু-দিদারা নিজেরাই হাল ছেড়ে দেন।

আপনি পাঁচটা বছরকে একটা বছর হিসেবে দেখুন আর হিসেবে করে হয়ে যান ১২ বছরের যুবক বা যুবতী। এইসব অনুভব করে মনে মধ্যে সুস্থ শরীরে আর সুস্থ মনে বেঁচে থাকার আর সবাইকে বাঁচিয়ে রাখার অদম্য ইচ্ছা প্রকাশ করুন।

  1. খুব জোরালো কিছু পিছুটান রাখুন ,অনুভব করুন তার জন্য আপনাকে বাঁচতেই হবে। আপনাকে ছাড়া তার জীবন কাটানো অসম্ভব।
  2. কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিযুক্ত হন। আর অনুভব করুন যে আপনি কাজ শেষ না করে কোথাও যেতেই পারেন না। আর এই অনুভব করার জন্য আপনাকে ওই কাজকে খুব ভালোবাসতে হবে।
  3. কাজের মধ্যে ডুবে থাকুন। দুশ্চিন্তা করার সময়টুকুও যেন না পান।
  4. নিয়মিত ব্যায়াম করুন ,ধ্যানে বসুন ,প্রচুর জল খান, প্রাণ খুলে হাসুন এই ভেবে -ঈশ্বর এতই মহান যে জীবন কে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন তার চাবিকাঠি আপনার হাতেই দিয়ে দিয়েছেন। আপনি তার সঠিক ব্যবহার করুন।

ব্যাপার টা কিন্তু খুব সহজ নয় বলেই আমরা মরে যাই। আসলে আমাদের ইচ্ছাগুলোর মৃত্যুর সাথে আমাদের ও মৃত্যু ঘটে। এমন কিছু কাজ করুন যাতে এই মহাবিশ্বে লুকিয়ে থাকা অলৈকিক শক্তিও আপনার বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে, যেমন এই মহাবিশ্ব সূর্যের মৃত্যু ঘটাতে পারে না, ঠিক তেমনি আপনার ও অস্তিত্বের ভয়ঙ্কর জোরালো কারণ রাখতে হবে। তাহলেই আপনি আয়ু বাড়ানোর চাবি কাঠি হাতে পাবেন ।

N. B – Shortly I will publish this in English. Theme is – “We are only responsible for our death”.

Thank you for reading. Let us make a beautiful world together. God bless.

Thank you for reading. Let us make a beautiful World together by co-operating each other. God bless ! COPYRIGHT : All posts on this blog are the works of @Tanusri Sen. Unauthorised use and/or duplication of this material without the express and written permission of the author is strictly not allowed. You may use excerpts and links or reblogs of this material provided that complete and clear credit is given to "With Nature - tanusrirchokhe", author of this - Tanusri Sen and with clear directions to the original content.

4 thoughts on “আমরাই আমাদের মৃত্যুর কারণ

  1. এমন কিছু কাজ করুন যাতে এই মহাবিশ্বে লুকিয়ে থাকা অলৌকিক শক্তিও আপনার বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে,……এটাই আমার বেচে থাকার মূলমন্ত্র । খুব ভালো লাগল।ধন্যবাদ।

    1. এতো ভালোভাবে পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকেও I খুব ভাল লাগল এটা জেনে যে আপনার ভাল লেগেছে I

Leave a Reply to FrancisAshis Cancel reply