মাতৃত্ববোধ

ই মহাবিশ্বে সবচে প্রিয় শব্দ – মা। তাই তো,কারণে-অকারণে,সুখে-দুঃখে,ব্যস্ততায়-আলসেমিতে অনায়াসেই বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্করা আমরা সক্কলে অজান্তে এই শব্দটা উচ্চারণ করি। একটি মাত্র বর্ণ দিয়ে তৈরি এই শব্দ শুনতে যেমন মধুর,বলতেও তেমন মধুর। প্রচণ্ড আলসেমিতে আমরা যখন ‘মা’ বলি,সত্যিই কি আমরা আমাদের মা এর কথা ভাবি ? না,ভাবি না।কিন্তু তাও ‘মা’ বলি,এই কারণে,এই ‘মা’ শব্দে আমরা সস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারি,হালকা হতে পারি।কিন্তু বাচ্ছারা যখন ‘মা’ বলে তখন কিন্তু ওরা সত্যিই মা এর কথা ভাবে।বাচ্চাদের কাছে মা ই পৃথিবী,মা ই leader,মা ই জীবনযাত্রার দিক নির্ধারক। -৯মাস থেকে ১০বছর বয়স অবধি ,মা ই বাচ্ছাদের দুনিয়া,তবে ১০০% নয়।১০-২০% অবশ্যই অন্যান্য কিছু যেমন পরিবেশ,বাচ্ছাদের বন্ধুরা,বাচ্ছার স্কুল নিয়ন্ত্রণ করে।তবুও প্রধান ভূমিকা কিন্তু মা এরই যা অস্বীকার করা যায় না। অনেক ভালো মা য়ের কুসন্তান দেখা গেছে কিন্তু কোনো খারাপ মা এর ভালো সন্তান হতেই পারে না।খারাপ বলতে খুব ই জঘন্য ব্যবহার,নিচু মন, জঘন্য কাজকর্ম। আবার ভালো বলতে সাধারণ ভালো মা দের বোঝানো হয়েছে,যারা এমনি ভালোই,কিন্তু অস্বাভাবিক ভালো কিছুও নয় ।আবার অস্বাভাবিক ভালো মা দের ৫টী সন্তানের মধ্যে একটি বাজে হতেও পারে,কিন্তু খুব অস্বাভাবিক বাজে সন্তান হতে পারে না।এই সব কিছু আবার সন্তানের বাবার ওপর নির্ভর করে না।কুপিতার কুসন্তান বা সুসন্তান আবার সুপিতার কুসন্তান বা সুসন্তান ও হতে পারে।আমি বিশ্বাস করি এটা পুরোপুরি নির্ভর করে মা এর ওপর,সন্তানের জীবনের শুরুতে মা কিভাবে সময় কাটিয়েছে তার সন্তানের সাথে।

যেসব মা রা দুর্বল,বা বাচ্ছার অনেক কিছুর ব্যাপার এ নির্বিকার,বা বাচ্ছাদের লাগাম টা পুরোপুরি ছেড়ে দেয়,সেইসব সন্তানদের ক্ষেত্রে, ১০বছর বয়সের পর থেকে বাইরের দুনিয়া টা মা এর চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে,বাইরের দুনিয়া টাই কর্তৃত্ব স্থাপন করতে থাকে সন্তানের ওপর।আর বাইরের দুনিয়া টা আজব।আধুনিক যুগের স্মার্ট ফোন নামক বস্তুটি বাচ্ছা টিকে ১৪-১৫ বছর বয়সে খুব ই জঘন্যতম জায়গায় এনে দিতে পারে।কিন্তু যেসব মা রা জীবনের শুরুতে সন্তানের মনে সুসন্তান এর বীজ স্থাপন করে ফেলেছে-সেইসব মা দের সন্তানের লাগাম নিজের হাতে ধরে রাখা সহজ হয়ে ওঠে।বাইরের পরিবেশ ,মা এর অনেকটা জায়গা নিয়ে নেয়,কিন্তু মা দের তাও লাগাম একদম ছেড়ে দেওয়া উচিত নয় আবার লাগাম শক্ত করে ধরে রাখাও উচিত নয়।

লাগাম নিয়ে কিছু কথা বলা যাক।বাচ্চা টি যখন ২-৭ বয়সের মধ্যে,মা এর উচিত সেই বাচ্চাটির বন্ধু হওয়া।আর তার জন্য সবার আগে মা কে বাচ্ছার মতো অভিনয় করা উচিৎ,কিন্তু বাচ্চা ভুল করলে আবার সেই মা এর বয়সে ফিরে এসে শাসন করাও উচিৎ।এর ফলে বাচ্ছা টি মা এর দুটি রূপের সাথে পরিচিত হয়ে উঠবে।কিন্তু মা এর বন্ধু রূপটি দিনের বেশি সময়ের জন্য যেন বরাদ্দ থাকে সেই দিকে খেয়াল রাখা উচিৎ । বাচ্ছা টি ক্রমশ মা এর বন্ধু হয়ে উঠবে। বাচ্চাটি যখন -১৪-১৫ বছর বয়সে পৌঁছাবে,মা এর তখন ও সন্তানের বন্ধু হয়ে থাকা উচিৎ,কিন্তু সেই  মা বন্ধুটি ও যেন ১৪-১৫ বয়সের ই হয়। সেইজন্যই কথা বলার ঢং, ধরণ সব কিছুই বদলে ফেলা উচিৎ।শাসন ক্রমশ কমতে থাকবে,আর সন্তানের স্বাধীনতার জায়গা বাড়তে থাকবে কিন্তু মা এর অগোচরে নয়।আর এটার অর্থই হল লাগাম ঢিলে করা,কিন্তু ছেড়ে দেওয়া নয়।

এরপর  আবার ‘মা’ শব্দ টিতে আসা যাক। এইভাবে লাগাম ছাড়তে ছাড়তে একদিন যখন বাচ্চাটি ১৮-২০ বছর বয়সে পৌঁছে যায়, ওই লাগাম টি যাদের ক্ষেত্রে ছোঁয়া থাকে মাত্র, তাদের সন্তানেরা ভালো খারাপ বিচার করতে শিখে যায় এই বয়সে,কিন্তু যেসব মা রা ১১-১২ বছর বয়সেই লাগাম ছেড়ে দেয়,তাদের সন্তানেরা অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।যেসব মা দের লাগাম শুধু ছোঁয়া থাকে সেইসব মা দের  সন্তানের ২১-২৩ বছর বয়সের মধ্যে লাগাম একদম ছেড়ে দেওয়া উচিৎ। এবার তরী ভাসতে দেওয়া উচিৎ,কারণ এবার তরী খুব ভালোভাবেই জানে ঢেউ এলে কি করে নিজেকে বাঁচাতে হবে। এবার সেই সন্তান বিপদে আপদে সব সময় সব কথা মা কে জানাতে থাকবে। আর মা এর কাজ হবে শুধু সাহায্য করা।এই যে একটা সন্তান এত বছর ধরে মা কে সব বলে এসেছে,এরপর সম্পর্কের টান ক্ষিণ হয়ে গেলেও,মা কে কাছে না পেলেও,মা এর মুখ খানা মনে না ভাসলেও,’মা’ শব্দটি উচ্চারণে ওই সন্তান টি রিলিফ পেতে পারে। আমার মনে হয় না যেসব পুরুষ মানুষেরা কু কর্মে লিপ্ত হয়,তারা কখনো অকারণে ‘মা’ শব্দটি উচ্চারণ করে।

Advertisements

1 thought on “মাতৃত্ববোধ

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: