পরিবর্তন 

 

আজকালকার বাচ্চারা শৈশব হারিয়েছে। হারিয়েছে spontaneousness,natural way te বড়ো হওয়া।আমাদের সময় যৌথ পরিবারের মধ্যে বড় হওয়াতে এখনকার বাচ্চাদের মতো মা কে কাছে পেতাম না। আর সেই জন্যে নিজে নিজে খেতে শিখে যেতাম কম বয়সেই। বন্ধু একটা বিশাল জিনিস ছিল। বিকেল হলেই খেলতে যাওয়া।এখনকার বাচ্চারা পুরো অন্য রকম। তাদের মা বাবা ছাড়া কেউ নেই। মা বাবা আবার থেকেও নেই। কারণ তাদের ব্যস্ত জীবন। আমরা মা বাবা কে না পেলেও কাকু কাকী পিসি ঠাম্মা দাদু কতজনকে পেতাম কাছে। এখনকার বাচ্চারা বডো একা। কি জানি কি ভবিষ্যৎ এদের। এদের পৃথিবী টা বাংলা কিন্তু স্কুল টা ইংরেজি। এরা স্বপ্ন দেখবে বাংলা তে কিন্তু পড়াশুনো করবে ইংরেজি তে। বাংলা কে অবহেলা করে তাড়াতে চাইলেও পারছে না কারণ এদের রক্তে বাংলা বংশে বাংলা। এরা ইংরেজী তে কথা বলবে বেশ ভালো কিন্তু স্বামী বিবেকানন্দ কে জানবে না। এরা যতই পরীক্ষা দিক না কেন এরা একটি মেশিন তৈরী হবে। একটা সময় আসবে এরা প্রকৃতির খামখেয়ালীকে মেনে নিতে পারবে না। দোষ এদের না, দোষ এই সমাজের।এরা প্রকৃতি কেও নিজের হাতে আনতে চাইবে। এরা ভাবতে জনবে না। ভাবার মতো এদের কে সময় দেওয়া হয় না। দুই বছর বয়স থেকেই এদের স্কুলে পাঠানো হয়। আর তখন থেকেই কেড়ে নেওয়া হয় ভাবনা চিন্তা করার অবকাশ।এরা মাটি তে মিশতে পারে না, মিশবেই বা কি করে ! এদের জন্ম তো মাটিতে নয়, এদের জন্ম high raise building এর এয়ার কন্ডিশনার রুমে। তাইতো এরা মেঝেতে খালি পা রাখলে এলার্জি হয় এদের। এরা বৃষ্টিতে একটু ভিজলেই এদের ঠাণ্ডা লাগে। কিন্তু আইসক্রীম খেলে এদের ঠান্ডা লাগে না কারন মেশিন মেশিনের সাথেই মিশতে পারে। কী অদ্ভূত তাই না? এরা swimming pool এ অনেকক্ষণ চান করলে এদের কিছু হয় না কিন্তু বৃষ্টির জলে এদের এলার্জি। আমরা pollution বাড়িয়ে চলেছি আর এরা ধোঁয়া সহ্য করতে পারে না। আমরা বলছি smoking is injurious to health আবার আমরাই cigarette এর factory বানাতে সাহায্য করছি। এরা ঊনুনের ধোঁয়া সহ্য করতে পারবে না কিন্তু কি অদ্ভতভাবে এরা cigarette এর ধোঁয়া সইতে পারবে। এরা মেশিন এর মতো life lead করতে করতে কখন নিজেরাই মেশিন হয়ে যাবে টের পাবে না।

কিন্তু যাই বলো ন্যাচারেল জিনিসের মাধুর্যকে অস্বীকার করা যাই না। আমাদের ছোটোবেলায় ভালো ছিল। হঠাৎ বৃষ্টি তে ভেজার আনন্দ টাও আলাদা। loadshading এ হ্যারিকেন এর আলোয় সবাই মিলে পড়াশোনা করার আনন্দও ভুলি নি। প্রচুর রোদে ছাতা ছাড়াই পা য়ে হেঁটে tution পড়তে যাওয়ার মধ্যে ও আনন্দ ছিল। 

আর আমাদের দুমুখো চরিত্র টাও নিষ্ঠুর কিন্তু সত্য। আমরাই খাবারে শাক সব্জিতে ভেজাল দিই আবার আমরাই সেটা বাজারে বিক্রি করি মানে খেতে বলি আবার আমরাই tv তে দেখাতে বলি এতে ভেজাল ওতে ভেজাল , খেয়ো না, খেলে শরীর এ এই হবে ওই হবে। আমরা সমস্যার সমাধান করতে জানি না। আর এরা সমস্যার সমাধান করবে tv,freeze এর মতো শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ replace করে। তবুও কারণের মূল টাকে কেউ উপড়ে ফেলবে না।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: